বাগমারায় ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত আনোয়ার জেএমবি শীর্ষ নেতা

বাগমারা রাজশাহী

অবশেষে রাজশাহীর বাগমারায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম আনোয়ার হোসেন ওরফে নাইম।

তার বাড়ি পাশের জেলা নওগাঁর মান্দা উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের উত্তর পারইল গ্রামে। বাবার নাম মৃত লোকমান হোসেন। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা। দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ার গ্রাম ছাড়া ছিল।

মঙ্গলবার (০৯ আগস্ট) দুপুরে নিহতের ছবি দেখে আনোয়ারকে শনাক্ত করেন তার মা শুরুজ্জান বেওয়া ও ১৩ বছরের মেয়ে আসমা আক্তার।

সন্ধ্যায় নওগাঁ জেলার মান্দা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পক্ষে থেকে মান্দা থানায় আনোয়ারের ছবি পাঠানো হয়। ওই ছবি নিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানে পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও প্রতিবেশীরা আনোয়ারকে শনাক্ত করেন বলে জানান মান্দা থানার এসআই এমদাদুল হক।

এসআই এমদাদুল হক আরও বলেন, নিহত আনোয়ারের দু’জন স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী অনেক আগেই তালাক নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা সেও জেএমবির সঙ্গে জড়িত। রিমা দু’বছরের ছেলে সিয়ামকে নিয়ে বগুড়া কারাগারে রয়েছে। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল তিনি গ্রেফতার হন।

৩ এপ্রিল শেরপুরের জোয়ানপুর গ্রামে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুই জেএমবির সদস্য নিহত হওয়ার মামলায় রিমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি বগুড়া কারাগারে রয়েছেন।

এছাড়াও আনোয়ারের বড় ভাই ইউসুফ আলী ও তার ছেলে খায়রুল ইসলামও বগুড়া কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর বগুড়া থানা পুলিশ তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

ইউসুফ আলী গ্রেফতার হওয়ার পর গত বছরের ২৬ নভেম্বর বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় দায়েরকরা মামলায় আদালতে জবানবন্দি দেন বলেও জানান তিনি।

আনোয়ারের বড় ভাই জেএমবির শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইয়ের সহযোগী ছিলেন। ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে রাজশাহীর বাগমারা ও নওগাঁর আত্রাই রানীনগরে বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে ইউসুফ থাকতো। তখন থেকেই তারা নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

শনিবার (০৬ আগস্ট) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোয়েন্দা শাখা ও বাগমারা থানা পুলিশ যৌথভাবে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের জোড়াপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশের বাগানে অভিযান চালায়। এ সময় দুস্কৃতকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ককটেল নিক্ষেপ ও গুলি বর্ষণ করতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি চালায়। এতে সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

পরে বাগানে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৩৪ বছর বয়সের অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পুলিশের একটি দল তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু রামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবরঃ বাংলানিউজ

1 thought on “বাগমারায় ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত আনোয়ার জেএমবি শীর্ষ নেতা

  1. ধন্যবাদ তোমাকে, যত্নকরে আমাকে কাঁদানোৱ জন্য ধন্যবাদ তোমাকে, সুখ গুলো কষ্টেৱ দামে কিনে নেয়াৱ জন্য ভালো থেকো যতটা ভাল থাকলে আমায় আর মনে পড়বে না

Comments are closed.