বাগমারায় বিদ্যুত না পেয়ে ক্ষুব্ধ মুসল্লীরা

বাগমারা রাজশাহী

নাটোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১ এর বাগমারা জোনাল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফলতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারণে বাগমারার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ ও ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। এতে চরম দূর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী। এমনকি পবিত্র রমজান মাসেও বিদ্যুতের লোডশেডিং আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় রোজাদাররা নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। তারা পবিত্র রমজান মাসের বিবেচনায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় মাত্রায় রাখার দাবী জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় এক মাস যাবত নাটোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি -১ এর বাগমারা জোনাল অফিসের আওতায় দিনে রাতে ২৪ ঘন্টার অর্ধেক সময়ই বিদ্যুত থাকে না। রাতের বেলা এই দূর্ভোগ আরো বেড়ে যায়।
এখানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অফিস- আদালত, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সর্বসাধারনকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। সামান্য বৃষ্টি বা একটু জোরে বাতাস হলেই নাটোর পল্লী বিদ্যুতের জাতীয় গ্রীড ফল্টের অজুহাতে বিদ্যুত বন্ধ হয়ে যায়। আবার আকাশ সামান্য মেঘাচ্ছন্ন হতে না হতেই একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ব্যাপক বেড়ে যায়। তখন কেন্দ্রীয় সঞ্চালন লাইনসহ অন্যান্য লাইন মেরামতের অজুহাত দেওয়া হয়।

বর্তমানে রমজান মাসে এক টানা বিদ্যুত না পেয়ে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোজাদাররা। এখানে সেহরী ইফতারী এমনকি তারাবীর নামাজের সময় বিদ্যুত না পাওয়ায় মুসল্লীরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। দেউলা গ্রামের কলেজ শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন সরুজ ও মাহাবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলেই সেই অজুহাতে দুই তিন দিন বিদ্যুত থাকে না। এখন সিয়াম সাধনার মাস তার উপর প্রচন্ড গরম আবহাওয়া। এ সময় একটানা বিদ্যুতের লোডশেডিং মেনে নেওয়া যায় না। তারা লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমিয়ে এসে একটানা বিদ্যুত সরবরাহের জন্য পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান। বর্তমানে এই উপজেলায় রাতের বেলা বিদ্যুত চলে গেলে আর আসার কথা নেই। বিদ্যুত না পেয়ে প্রচন্ড গরমে রোজাদার মানুষরা আর ঘুমোতে পারে না।

জানা গেছে, নাটোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি বাগামারা জোনাল অফিসের ব্যাপক দুর্নীতি, ঘুষ বানিজ্যের একাধিক অভিযোগ পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সহ বিভিন্ন দপ্তরে থাকলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না এলাকাবাসী। ওই সব জায়গায় অভিযোগ করায় ঘুষ দূর্নীতির মাত্রা পূর্বের তুলনায় আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ভুক্তভোগি মহল মনে করছেন।

তাদের মতে, বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে রয়েছে, বিদ্যুত ইউনিটের বিপরীতে বিদ্যুতের বিল বেশি করে দেওয়া, মিটার সংযোগ ছাড়াই লাইন সংযোগ দিয়ে অবৈধ বিল আদায়, মিটার ভাড়ার নামে প্রতি মাসে মাসে টাকা আদায়, অবৈধ পার্শ¦সংযোগ দেওয়া, সেচ বিলে ব্যাপক কারসাজি করে বিল আদায়, নতুন সংযোগ ও মিটার প্রদানে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ প্রভৃতি দুর্নীতিতে বিদ্যুত অফিসের কথিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীরা রাতারাতি আঙ্গুর ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইতিপূর্বে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির কারণে এই অফিসের ওয়ারিং পরিদর্শকসহ একাধিক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত ও স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও কমছে না এই অফিসের দুর্নীতি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেলারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম জাতীয় গ্রীড থেকে চাহিদার কম বিদ্যুত পাওয়ায় লোডশেডিং ও সঞ্চালন লাইনে কিছু কিছু ত্রুটি থাকায় লো-ভোল্টেজ হওয়ার কথা জানান।

তিনি আরো বলেন, গত শনিবার বাগমারার ওপর দিয়ে যে প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে তাতে গোটা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের লাইন মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

বর্তমানে লাইন মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। দু’এক দিনের মধ্যে বিদ্যুত সঞ্চারন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে তার অফিসের অন্যান্য অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছেন।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন