বাগমারায় বোমা হামলায় গ্রেফতার দেখানো হতে পারে চট্টগ্রামের ৩ জেএমবিকে

অপরাধ বাগমারা রাজশাহী

রাজশাহীর বাগমারায় মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হতে পারে চট্টগ্রামে গ্রেফতার তিন জেএমবি সদস্যকে।

বাগমারায় আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের পেছনে ওই তিন জেএমবি সদস্যের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এরই ভিত্তিতে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহীর বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আবুল কালাম আযাদ সোমবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন।

মামলাটির উচ্চতর তদন্তে থাকা রাজশাহী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ূন কবীর রাতে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি জানান, চট্টগ্রামের পুলিশ গ্রেফতার তিন জেএমবি সদস্য নাইমুর রহমান, ফয়সাল মাহমুদ ও শওকত রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় চট্টগ্রাম পুলিশের সঙ্গে রাজশাহীর বাগমারা থানার তদন্ত কর্মকর্তা থাকবেন।

হুমায়ূন কবীর আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজশাহীর ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সেই মামলায় তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে। নিয়ে আসা হবে রাজশাহীতে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ওই তিন ছাত্র পুলিশের কাছে জেএমবি সম্পৃক্ততার বিষয়ে ইতোমধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

তাদের দেওয়া তথ্য থেকে উদ্ধার করা হয় স্নাইপার রাইফেলসহ বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম। ডিসেম্বরের শেষ দিকে গ্রেফতারের পর তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে চমকে দেওয়ার মতো আরও অনেক তথ্য।

গত ২৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এক নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের হাটহাজারী আমানবাজার এলাকায় জেএমবির আস্তানা থেকে একটি অত্যাধুনিক এমকে-১১ স্নাইপার রাইফেল, ২টি ম্যাগাজিন, ২৫০ রাউন্ড গুলি, ৫ কেজি বিস্ফোরক জেল, ১০টি ডেটোনেটর, বিপুল পরিমাণ বোমা তেরির সরঞ্জাম, জিহাদী বই, জেএমবি সংগঠনের কাগজপত্র, সেনাবাহিনীর পোশাক, ১২ সেট ৠাংক ব্যাচ উদ্ধার এবং তিন জেএমবি সদস্যকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

এদিকে, বাগমারার মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহত বোমা বহনকারী যুবকের আঙুলের ছাপও তদন্তকারীদের সংগ্রহে থাকা নমুনার সঙ্গে মেলেনি। তাই তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি এখনও। তবে নতুন যুবকদের কাজে লাগানোর পেছনে জেএমবির পুরনো এক বা একাধিক নেতার যোগসূত্র আছে বলে সন্দেহ পুলিশের। তাই আপাতত জেএমবি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি মাথায় রেখেই তদন্তে এগোচ্ছে পুলিশ।

ঘটনার পর গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে অজ্ঞাতদের আসামি করে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পর মামলাটি আবার আলোর মুখ দেখতে পারে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের সৈয়দপুর চকপাড়া আহমেদিয়া জামে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয় হামলাকারীই।

এ সময় আরও ১০ জন আহত হন। এদের মধ্যে শিশুসহ তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাংলানিউজ-http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/456774.html