বাগমারায় মসজিদে বোমা হামলায় অংশ নেয় তিনজন

বাগমারা রাজশাহী

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার মিশনে মোট তিনজন অংশ নিয়েছিল। বোমা বিস্ফোরণে হামলাকারী মারা যায়। অপর দু’জন মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনার নেপথ্যে কারা তা জানা যায়নি।

মঙ্গলবার (০৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) নিসারুল আরিফ এ কথা বলেন।

এর আগে সোমবার (০৬ জুন) দিনগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর চাপড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জেএমবি সদস্য জামাল উদ্দিন মারা যায়।

দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী পুলিশ সুপার নিসারুল আরিফ বলেন, দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর পুলিশ বাগমারার আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী তারিক আজিজের (২৫) পরিচয় শনাক্ত করে। তারিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার রূপনগর গ্রামের আবু সালেকের ছেলে।

সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ছিল। রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ তারিকের মা তসলিমা বেগমকে আটক করেছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (০৬ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী জেলা পুলিশের একটি দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাবুডাইং এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে জামালকে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গোদাগাড়ীর ফরাদপুরে অভিযান চালাতে যায় পুলিশ। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার সহযোগীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ফরাদপুর গ্রামের চাপড়ার পাশে নাইমুরের জমির কাছে পৌঁছালে জেএমবির কয়েকজন সদস্য পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ ঘটনায় জেএমবি সদস্য জামাল উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হলে তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্যও আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি বড় হাসুয়া, ৬টি ককটেল, জামালের পাসপোর্ট ও ভিসা উদ্ধার করা হয়।

নিহত জামাল উদ্দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর কালিনগর গ্রামের তাবজুল হকের ছেলে। সে জেএমবি’র আত্মঘাতী টিমের সক্রিয় সদস্য ছিল। গ্রেফতারের পর জামাল পুলিশের কাছে বাগমারায় মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এ সময় হামলায় অংশ নেওয়া তারিকের পরিচয়ও জানায়। তার তথ্যের ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রূপনগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তারেকের মা তসলিমা বেগমকে আটক করেছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। হামলায় অংশ নেওয়া অপরজনের পরিচয়ও পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তার পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। শিগগিরই তাকেও গ্রেফতার করা যাবে বলে জানান পুলিশ সুপার নিসারুল আরিফ।

এর আগে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয় তারিক আজিজ। তারিকের পরিচয় শনাক্ত ও তার সহযোগী জামালকে ধরিয়ে দিতে রাজশাহী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।

খবরঃ বাংলানিউজ