বাগমারায় সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩

বাগমারা রাজশাহী

বাগমারার আউচপাড়া ইউনিয়নের হাটগাঙ্গোপাড়ায় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় জাহেদুল ইসলাম বুলু নামে আরো একজন মারা গেছে।

সোমবার ভোরে রাজশাহী মহানগরীর মহানগর ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এদিকে রোগীর স্বজনরা চিকিৎসার অবহেলায় জাহেদুল ইসলাম বুলু মারা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে দিনের যেকোনো সময়ে রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করার কথাও আছে।

জাহেদুল ইসলাম বুলুর চাচাতো ভাই সেলিম জানান, জহেদুল ইসলাম বুলুকে নগরীর লক্ষ্মীপুর সিডিএম হাসপাতাল থেকে রোববার দুপুরে মহানগর ক্লিনিকে অপারেশন করার জন্য নেয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক লুৎফর রহমান বুলুর মস্তিষ্কে অস্ত্রপচার করেন। এরপরেই তার শারীরিক অবস্থার আরো বেশি অবনতি হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই জাহেদুল ইসলাম বুলু মারা যান।

প্রসঙ্গত, শনিবার বিকেলে হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মিছিল মুখোমুখি হয়ে গেলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় গুলিতে সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হন। সংঘর্ষের সময় রমজান আলী রঞ্জু নামের অপর একজন হার্টঅ্যাটাকে মারা যান।

পুলিশ সুপার নিশারুল আরিফ জানান, সংঘর্ষে পুলিশসহ পক্ষ ছিল তিনটি। অপর দুই পক্ষের একটি আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও আরেকটি বিদ্রোহী। সংঘর্ষের সময় তিন পক্ষই শক্তি প্রদর্শন করেছে। সেখানে পুলিশ ছাড়াও অন্যরাও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে। ফলে আওয়ামী লীগ কর্মী সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক কাদের গুলিতে নিহত হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরে বিষয়টি জানা যাবে। তবে রঞ্জু হার্টঅ্যাটাকে মারা গেছেন। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান পুলিশ সুপার।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার রাতে সারনদি গ্রামে এক প্রার্থীর সমর্থকের পুকুরের মাছ বিশ দিয়ে মেরে ফেলা হয়। এর জের ধরে অপর প্রার্থীর সমর্থকদের ভুট্টা ক্ষেত নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। এ থেকে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সে ক্ষোভ থেকে দু’পক্ষ হাটগাঙ্গপাড়া বাজারে জড়ো হতে থাকে। বিকেলে এক পক্ষ মিছিল বের করলে সাথে সাথে অপর পক্ষও মিছিল বের করে। এভাবে সংর্ঘের সূত্রপাত হয় বলে জানান পুলিশ সুপার আরিফ।

শনিবার বিকেলে বাগমারার আউচপাড়া ইউনিয়নের হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সরদার জানান, মোহাম্মদের সমর্থকদের সঙ্গে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম শহীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয়। এক পর্যায়ে ত্রিমূখী সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়।

এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছয় পুলিশ সদস্যসহ ১৬ জনকে রাজশাহী মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চতুর্থ দফার তফসিল অনুযায়ী শনিবার বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। এর দুইদিন আগে বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন থেকে উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নের নির্বাচন স্থাগিত করা হয়। নির্বাচন স্থগিত করা হলেও ভোটের মাঠের সমর্থন নিয়ন্ত্রণে রাখতে মিছিল বের করে দুই প্রার্থীর সমর্থকরা।

খবরঃ বাংলামেইল২৪