বাঘায় আমকে সামনে রেখে ডালা তৈরীতে ব্যস্ত সাহাপুরের ৩০ পরিবার

বাঘা

রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৩৯ কিলোমিটার পূর্বদিকে বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার শাহাপুর গ্রাম। এ গ্রামের ৩০টি পরিবার আম মৌসুমকে সামনে রেখে ডালা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ডালা তৈরি করার মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করছেন তারা। এমনি একটি গ্রাম শাহাপুর। এ গ্রামের অল্প শিক্ষিত নারী-পুরুষ বাঁশ, কঞ্চি, দঁড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ডালা তৈরীর কাজ করেন। এ গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৪৫)। ডালা তৈরি করে মৌসুম ছাড়াও প্রতি মাসে আয় করেন প্রায় সাড়ে আট হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। পাশাপাশি স্ত্রী আংগুরা বেগম ডালা তৈরি কাজের সহযোগিতা করেন। মাসে যা রোজগার করেন সংসারের খরচের জন্য যথেষ্ট। বিয়ের মাস ছয়েক পর থেকে ওই কাজে যুক্ত হন। একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন সাহাপুর গ্রামের রহিম উদ্দিন, জমসেদ আলী, সাবাজ আলী, সাধন হোসেন, জাদব আলী, ছহির হোসেন, পচা হোসেন, মিন্টু। জাহিদুল ইসলামের সম্বল বলতে বাবার দেওয়া সাড়ে চার শতাংশ ভিটেটুকু। এ ছাড়া কোনো আবাদযোগ্য জমি নেই। দিনমজুর স্বামীর রোজগারে সংসার না চলায় আংগুরা বেগম (৩৯) এখন ডালা তৈরির কাজে সহযোগিতা করছেন। দুই ছেলে নিয়ে তার চার সদস্যের পরিবার। বড় ছেলে আরিফুল ইসলাম আগামি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিবে। ছোট ছেলে আকাশ হোসেন স্থানীয় স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। তার আয়ে সংসারে কিছুটা সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। একসময় দিনমজুর স্বামীর একার আয়ে সংসার চলছিল না। সংসারে সচ্ছলতা আনতে তিনি ঘরকন্নার পাশাপাশি ডালা তৈরির কাজ করেন। ৬৫ বছরের বৃদ্ধ চয়েন উদ্দিন জানান, একটি ডালা তৈরি করলে মজুরি দিতে হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। একজন শ্রমিক প্রতিদিন তিন থেকে চারটি ডালা তৈরি করতে পারে। এতে একজন শ্রমিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা রোজগার করতে পারে। ডালা তৈরীতে সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে ওই গ্রামের ৩০টি পরিবার। তারা সুদ মুক্ত ঋনের দাবি জানান। একই গ্রামের চয়েন উদ্দিন জানান, সম্পত্তি বলতে বসত ভিটা ছাড়া আবাদযোগ্য জমি নেই। ডালা তৈরি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে। তবে আগের তুলনায় সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। আমার সাত ছেলে সবাই আলাদা হয়ে গেছে। আমি শেষ বয়সে এসেও যা আয় করি সংসার ভালোভাবে চলে। এখন দিনে দিনে তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। আড়ানী পৌরসভার শাহাপুর মহল্লার কাউন্সিলার আল আমিন কবির জানান, এ গ্রামের মানুষ আম মৌসুম ছাড়াও ডালা তৈরি করে সুন্দরভাবে দিন যাবন করছে। তাদের সংসারে কোনো অভাব নেই।