বাঘায় নিখোঁজ মেহেদীর ৯ মাসেও সন্ধান মেলেনি

বাঘা রাজশাহী

নিখোঁজ হবার নয় মাস পরেও সন্ধান মেলেনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের সাহাদুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসানের। ছেলে হারানোর শোকে কাতর মা মনোয়ারা এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ২০১৬ ইং সালে ঢাকায় এক টিভি চ্যানেলে চাকরি করছিল মেহেদি হাসান (১৮)।

আকষ্মিক ভাবে ১৯ অক্টোবর নিখোঁজ হয় সে। এরপর থেকে পুলিশ, র‌্যাব, আইনজীবী ও মানবাধিকার কমিশনে গিয়ে চোখের জল ফেলতে ফেলতে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে পিতা-মাতা। তার পরেও তারা আশা ছাড়েননি ছেলের সন্ধান পাওয়ার।

শনিবার মেহেদী হাসানের বাবা সাহাদুল ইসলাম স্থানীয় বাঘা প্রেসক্লাবে এসে কান্না ভরা কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা আমার ছেলেকে খুঁজে পেতে সহায়তা করুন। আমার ছেলে মেহেদী হাসান ২০১৬ সালে ইনডিপেনডেন্ট টিভি অফিসে সিকিউরিটি হিসেবে চাকরি করছিল। ১৯ অক্টোবর রাত ৮টায় ছেলে আমাকে জানায়, সে অফিসের ডিউটিতে আছে। আধা ঘণ্টা পরে আবার ফোন করে জানায়, সে ছুটিতে বাড়ি আসবে। রাত পৌনে ১২টায় তার ট্রেন। তার সাথে আমার এটাই শেষ কথা। তার পর থেকে ছেলের আর কোনো খোঁজখবর আমরা পাচ্ছি না। যতবার ফোন দিয়েছি ততবারই তা বন্ধ পেয়েছি।

পরের দিন ২০ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টায় আমার ছেলের অফিসের সহকর্মী সিকিউরিটি স্টাফ রহমান আলী আমার মোবাইলে ফোন দিয়ে জানান, আপনার ছেলেকে থানায় খোঁজ করেন। কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ওর ব্যাগে বিয়ার পাওয়া গেছে। কে দিয়েছে? আমার ছেলে তো নেশা করে না। এ কথা বললে রহমান জানায়, হযরত নামে তাদের আরেক বন্ধুর ব্যাগ মেহেদীর কাছে ছিল।এই বলে সে লাইন কেটে দেয়।

পরবর্তী সময় আমার ছেলেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আমরা ২৩ অক্টোবর ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি অফিসের তেজগাঁও কার্যালয়ে সিকিউরিটি কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের কাছে গেলে তিনি কথাবার্তার একপর্যায়ে বলেন, আপনার ছেলের তো আর্মিতে যাওয়ার শখ ছিল, এখন ক্ষমতা থাকলে তাকে উদ্ধার করে নেন। এই বলে তিনি আমাদের সাথে আর কথা না বলে ভেতরে চলে যান। আমরা তার এ কথার কোনো অর্থ বুঝতে না পেরে সেখান থেকে চলে আসি। বিভিন্ন জায়গায় ছেলের খোঁজে ধরনা দিতে থাকি। র‌্যাব অফিসসহ বিভিন্ন জায়গায় আবেদন নিবেদন করতে থাকি। এ ছাড়া তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ছেলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে একটি জিডি করি।

পরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে ছেলেকে উদ্ধারে আইনগত সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছি। কিন্তু ছেলে উদ্ধারে কোথাও কোনো সাড়া পাইনি। এভাবে ছেলের সন্ধানে দুই মাস পার হয়ে যায়। হঠাৎ একদিন মোবাইল নম্বরে ফোন করলে এক অপরিচিত কণ্ঠের ব্যক্তি রিসিভ করে এবং তার নাম জানান মোহাম্মদ রহমান। তার কাছে এ সিম কিভাবে এলো জানতে চাইলে সে জানায় তার এক বন্ধু মেহেদীর (আমার ছেলে) কাছ থেকে একমাস আগে সিমটি সে কিনে নিয়েছে। কথা বলার সময় ট্রেনের আওয়াজ পাওয়া যায়। সে মিরপুর শ্যাওড়াপাড়া থাকে বলে জানায়। এরপর লাইন কেটে দেয়। পরে জানা যায়, তার নাম আসলে লেদু ঝাড়–দার। সে নিজের নাম মিথ্যা বলেছে। আমার বহু কান্নাকাটির এক পর্যায়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই তৌহিদ তাকে গ্রেপ্তার করে কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।

মেহেদীর বাবা সাহাদুল ইসলাম আরো বলেন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা জিডির তদন্ত করছেন এসআই তৌহিদ। তিনি বলেছেন, আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু কোনো সূত্র খুঁজে পাচ্ছি না। তিনি ছেলের সন্ধানের জন্য মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে যে কোনো কারণে মামলা নেননি ওসি। পরে নিখোঁজ ছেলেকে উদ্ধারে র‌্যাব-২ এ আবেদন করা হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিষয়টি তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় মেহেদীর মা-ছেলে হারানোর শোকে খেয়ে না খেয়ে কান্না-কান্নাকাটি করতে করতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তাদের দাবি মেহেদী যেখানেই থাক যে ভাবেই থাকে -তারা তাকে একবার দেখতে চান।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

1 thought on “বাঘায় নিখোঁজ মেহেদীর ৯ মাসেও সন্ধান মেলেনি

Comments are closed.