বাঘায় রাতের আঁধারে পুড়িয়ে দেয়া হলো তাদের জাল-নৌকা

বাঘা রাজশাহী

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর এলাকার বড়াল নদীর তীরে চকসিংগা হালদারপাড়া। গ্রামটিতে জেলেদের বসতি। গ্রামের ৫৭ জন বাসিন্দা মিলে একটি নৌকা ও জাল কিনে বড়াল নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা সেই জাল ও নৌকা পুড়িয়ে দিয়েছে।

আগুনে জাল ও নৌকা পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে জীবন ও জীবিকা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন হালদারপাড়ার বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা হীরেন চন্দ্র হালদার জানান, গ্রামের সুধান্ন হালদার, হরিপদ হালদার, কালিপদ হালদার, জিতেন হালদার, বৃন্দাবন হালদার, নয়ন চন্দ্র হালদার, বিকাশ চন্দ্র হালদার, পরিমল চন্দ্র হালদারসহ তারা মোট ৫৭ জন টাকা তুলে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি নৌকা তৈরি করেন। এছাড়া আড়াই লাখ টাকা দিয়ে কেনেন ৪০০ মিটার জাল।

এই জাল ও নৌকায় করেই তারা মাছ ধরে সংসার চালান। প্রতিদিনের মতো মাছ ধরা শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা নুরনগর খয়েরমিল এলাকার ঘাটে নৌকা বেঁধে রেখে চলে যান। রাতে দুর্বৃত্তরা নৌকাটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে জাল ও নৌকা পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। সকালে খবর পেয়ে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর নারী-পুরুষরা বড়ালের পাড়ে ছুটে যান। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আড়ানী মৎস্যজীবী সময়বায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার হালদার বলেন, ‘এমনিতেই এলাকায় নদী-নালা নেই। সব শুকিয়ে গেছে। বড়াল নদীতে কিছুটা পানি আছে। এই নদীতে আমরা যৌথভাবে নৌকা ও জাল কিনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। রাতে কে বা কারা সেগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা এখন সংসার চালাবো কিভাবে?’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। মাছ ধরা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে নৌকা ও জালে আগুন দেওয়া হতে পারে। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। তবে এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ হয়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের খুঁজে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

খবরঃ দৈনিক সানশাইন