বাড়িতে টয়লেট নেই! তাই গলায় দড়ি কিশোরীর

জাতীয়

প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির বাইরে যেতে হয়। বছরের পর বছর এভাবে চললেও বয়স বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ‘আত্মমর্যাদাবোধে’ লাগতে থাকে কিশোরী খুশবা কুমারীর। ‍আত্মমর্যাদাবোধ অনুভব করার পর থেকেই বাড়ির ভেতরে শৌচাগার বানাতে পরিবারের কাছে বারবার অনুরোধ জানায় সে।

কিন্তু ‘বিয়ের জন্য টাকা জমানো হচ্ছে, এখন তা খরচ করা সম্ভব নয়’ বলে তার অনুরোধ উড়িয়ে দেয় পরিবারের লোকজন। খুশবা এই ঠুনকো যুক্তিও মেনে নিতে পারেনি, মেনে নিতে পারেনি ‍আত্মমর্যাদাবোধ-হানিও। অভিমান-ক্ষোভের প্রকাশ ঘটিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলো ১৭ বছর বয়সী এ কিশোরী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ভারতের ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলায় এ ঘটনা ঘটে। কিশোরীর বাবা পেশায় একজন চালক।

স্থানীয় পুলিশের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানায়, বাড়ির ভেতরে শৌচাগ‍ার নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনুরোধ করে আসছিল খুশবা কুমারী। কিন্তু ‘বিয়ের জন্য টাক‍া জমানো হচ্ছে, এখন টাকা খরচ করা যাবে না’ বলে তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে পরিবার। আর তাতে অভিমানী খুশবা কুমারী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

খুশবার অশ্রুসিক্ত মা সাঞ্জু দেবী বলেন, মেয়ের বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তার আবদার মেনে না নেওয়ার সে তার জীবনকে শেষ করে দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম জানায়, ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামের শতকরা ৯২.৪ শতাংশ মানুষের নিজস্ব শৌচাগার নেই।

সম্প্রতি এক জরিপে দেখা যায়, যে বাড়িতে শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই ওই বাড়িতে মেয়েরা বউ হয়ে যেতে আপত্তি জানাচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে ইউনিসেফের এক জরিপে বলা হয়, ঝাড়খণ্ডে শিশু মৃত্যু ও রোগাক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া প্রধান কারণ দুর্বল স্যানিটেশন।