বায়ু দূষণ কমানোয় সারাবিশ্বে রাজশাহী প্রথম

রাজশাহী

গার্ডিয়ান অবলম্বনে মীর রাসেলঃ

বাতাসে মিশে থাকা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান কমিয়ে আনায় সারাবিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে রাজশাহী। সম্প্রতি গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এমনটিই জানানো হচ্ছে। ৬৭.২ শতাংশ বায়ু দূষণ কমিয়ে রাজশাহী এ অবস্থান অর্জন করেছে।

পিএম১০ এবং পিএম২ নামের বিষাক্ত কণা বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করে এবং দূষিত বাতাস স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুস ক্যান্সার, অ্যাজমা ইত্যাদি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। পিএম বা পার্টিকেল পলিউশন হলো বাতাসে মিশে থাকা বিষাক্ত কঠিন এবং তরল কণার মিশ্রণ।

২০১৪ সালে রাজশাহীর বাতাসে প্রতি ঘণমিটারে পিএম১০ কণার পরিমাণ ছিলো ১৯৫ মাইক্রোগ্রাম। প্রায় দুই তৃতীয়াংশ কমে বর্তমানে যার পরিমাণ ৬৩.৯ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়াও পিএম২ নামের কণা প্রায় অর্ধেক কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭ মাইক্রোগ্রামে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের এক লক্ষেরও বেশি জনসংখ্যা বিশিষ্ট দেশসমূহের শহরগুলোর মধ্যে ৯৮ ভাগ শহরই বাতাসের গুণ নিয়ন্ত্রণকে তোয়াক্কা করেনা। বায়ু দুষণ কমিয়ে আনা প্রধান দশটি শহরের ৪ টি দক্ষিণ এশিয়ায়। অন্য তিনটি হলো ভারতের তেজপুর, নয়াদিল্লী এবং পানাজী।

air pollution decrease graph

রাজশাহীতে খুব বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় এবং ইঞ্জিনচালিত গাড়ি না থাকায় বায়ুদূষণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজশাহী শহরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক মনে করেন রাজশাহী অঞ্চলে ইট ভাটা কমিয়ে আনা, এর জ্বালানীতে পরিবর্তন আনা এবং নগরীর সবুজায়ন প্রকল্প রাজশাহীকে এ অবস্থানে আনতে সাহায্য করেছে।

নগরীতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিশেষ পরিবর্তন আনা হয় ২০০৪ সালে চীন থেকে আমদানী করা অটোরিক্সা চালুর মাধ্যমে; যা সাধারণত গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ব্যাটারি চালিত এইসব অটোরিক্সা ডিজেল এবং পেট্রোলচালিত যানবাহনের মত বিষাক্ত ধোঁয়া সৃষ্টি করে না।

‘নগরীর কোনো মাটি ফাঁকা থাকবে না’ নামের বিশেষ একটি প্রকল্প চলমান আছে বলে জানান নগর পরিকল্পনায় অধ্যয়ন করা আশরাফুল হক। এই প্রকল্পে নগরের সমস্ত ফাঁকা স্থানে বৃক্ষরোপণ করে রাজশাহীকে সবুজের নগরীতে পরিণত করা হবে।

খবরঃ দ্যা গার্ডিয়ান