বিজ্ঞান, প্রযুক্তি চর্চাসহ নানা বইয়ের ভাণ্ডার হাতেম ফাউণ্ডেশন পাঠাগার

রাজশাহী

বিজ্ঞান চর্চা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা এবং পাঠকের বিভিন্ন বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন পড়ার পিপাসা মিটানোর এক অন্যন্য সম্ভার নগরীর হাতেম ফাউন্ডেশন পাঠাগার। ২০১৩ সালে নগরীর কোর্ট মহিষবাথান এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এ পাঠাগারটি। পাঠাগারে নগরীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষদের সমন্বয়ে বিজ্ঞানে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে চর্চা করা ও শিখানো হয়। এছাড়া পাঠাগারে রয়েছে নিজস্ব ল্যাপটপ কম্পিউটারের মাধ্যমে ফ্রি ইন্টারনেট ব্যাবহারের সুবিধা। আর বিভিন্ন বই, পত্রিকা ও ম্যাগাজিনতো আছেই। মনোরম পরিবেশে পাঠকরা তাদের পাঠের পিপাসা মেটান।
গ্রন্থাগারিক জোবিউল ইসলাম জানান, পাঠাগারে সাহিত্য, উপন্যাস, ছোটদের গল্পের বই, ১ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্য বই, ধর্ম ও জীবন ভিত্তিক বইসহ প্রায় তিন হাজারের উপর বিভিন্ন বই রয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা ম্যাগাজিন, চাকুরির পত্রিকা, চাকুরির প্রস্তুতির বই রয়েছে। এছাড়া পাঠাগারের নিজস্ব ল্যাপটপে ফ্রি ইন্টারনেটের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, পাঠাগারে বিজ্ঞান চর্চার জন্য আলাদা একটি স্থান রয়েছে যেখানে রাজশাহীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিজ্ঞানের চর্চা করেন।

পাঠাগারে দীর্ঘ দিন থেকে পড়তে আসেন পাঠাগারের পাঠক শাহাদাত হোসেন নয়ন। তিনি জানান, এই এলাকায় পাঠকদের বই পড়ার পিপাসা মিটাচ্ছে এই পাঠাগারটি। বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পাঠাগারটিতে ফ্রি ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সুবিধা তরুনদের আরো আকৃষ্ট করেছে। তবে ইন্টারনেটের সুবিধাটি আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বিজ্ঞান চর্চার অগ্রপথিক সাবেক রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুস সামাদ জানান, বিজ্ঞান চর্চা নামক তাদের একটি টিম আছে। এই টিমটি এই পাঠাগারে এসে বিজ্ঞান চর্চা করে থাকেন। যারা বিজ্ঞান বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন তাদের সমস্যার সমাধনে টিমটি কাজ করে বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, অল্প কিছু দিনের মধ্যে পাঠাগারের উদ্যোগে বিজ্ঞান চর্চা টিমের একটি বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হবে।

হাতেম ফাউন্ডেশন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ হাতেম জানান, এলাকার ঝরে পড়া শিশুদের বইয়ের অভাব মেটাতে এই পাঠাগারটি প্রথমত তৈরি করা হয়েছিল। তবে সবধরনের পাঠকদের বই পড়া আগ্রহ থাকায় এখানে পাঠকদের পাঠের চাহিদা মেটাতে পাঠকদের চাহিদা মত বই রাখা হয়েছে। পাঠক তার চাহিদা বইয়ে যে কোন বইয়ের চাহিদা লিখা দিলে সে বই রাখার ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে পাঠাগারে বর্তমান ইন্টারনেটকে আরো আধুনিক করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, পাঠাকদের জ্ঞান অর্জনে যে কোন চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা হবে। গ্রন্থাগারিক বা চাহিদা বইয়ে লিখে দিলেই হবে। সমাজের প্রতিটি জ্ঞানপিপাসুদের জন্য এই পাঠাগার। সমাজকে অজ্ঞাতার হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা এবং যোগ্য নাগরিক তৈরি করা এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন