বিতর্কে ইসি, ‘১৫ বছর নাকি ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে’

জাতীয়

আসন্ন ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে ‘১৫ বছর নাকি ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে’– এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কারণ ভোটার করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ১৮ বছর বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এবার ভোটার হালনাগাদে ১৫ বছর বয়সীদেরও তথ্য সংগ্রহের প্রস্তাব করেছিল জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি)। নাগরিকদের উন্নতমানের স্মার্টকার্ড দেয়ার জন্য এই প্রস্তাব করা হলেও নির্বাচন কমিশনাররা বলছেন, গত বছরের হালনাগাদে ৪৭ লাখ ভোটার করা হলেও তাদের এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়নি। এসব ভোটারের ম্যানুয়াল কার্ড ও স্মার্টকার্ডের মধ্যে কোনটি প্রদান করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নতুন করে ভোটার হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছেন তারা।

এনআইডির প্রস্তাবের সঙ্গে পাঁচ সদস্যর নির্বাচন কমিশনের একটি অংশ একমত পোষণ করলেও আরেক অংশ দ্বিমত পোষণ করেছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদে ১৫ না কি ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় গত এক মাসে একাধিক বৈঠক করেও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবারের কমিশন সভায় বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন একজন নির্বাচন কমিশনার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্মার্টকার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে ১৫ বছর বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ অন্যান্য দেশে কীভাবে করা হয়, তা দেখে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য এনআইডির মহাপরিচালকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটির প্রতিবেদনের পরই আবার বৈঠকের আহ্বান করবেন সিইসি। বিদ্যমান ভোটার তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে মোট ৯ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫২ জন ভোটারের স্মার্টকার্ডক্রম শেষ না করে অন্যদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি রয়েছে কমিশনারদের। একই সঙ্গে স্মার্টকার্ড প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও উপজেলা সার্ভার স্টেশনের কার্যক্রম নিয়েও নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন, ২০০৮ সালে যারা ভোটার হয়েছেন তাদের আগে স্মার্টকার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। কিন্তু তা না করে ১৫ বছর বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করে স্মার্টকার্ড দেয়ার চিন্তা সময়োপযোগী মনে হয় না। এছাড়াও গত বছরে নতুন ৪৭ লাখ ভোটারকে এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয়নি। সার্ভার স্টেশনগুলো ব্যবহারের উপযোগী করা হয়নি। প্রস্তুতি ও কার্যক্রমে অসঙ্গতি রেখে কোনো কাজ শুরু করলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেবে।

ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিবছর ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার নিয়ম রয়েছে। ১৮ বছর বয়সের যে কোনো নাগরিক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তের নিয়ম রয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ অনুযায়ী কমিশন অন্যান্য নাগরিককে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও শর্ত সাপেক্ষে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করতে পারবে।

এনআইপি পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৫ জুলাই থেকে সারাদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। গতকালের কমিশন বৈঠকে হালনাগাদ ভোটার তালিকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি কমিশন। এছাড়া ছিটমহলবাসীদের ভোটার করার বিষয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে বিশেষ করে ছিটমহল বিনিময় সম্পন্ন হলেই এসব এলাকার নাগরিকদের ভোটার করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন বলেন, আশা করছি দ্রুত নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তবে সেটি কত বছর থেকে নির্ধারিত হবে—তা কমিশন সভায় চূড়ান্ত হবে। স্মার্টকার্ড দেয়ার ক্ষেত্রেও কাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইত্তেফাকে প্রকাশিত