বিরল রোগে আক্রান্ত রাজশাহীর স্বর্ণালীকে উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ

পবা রাজশাহী

বিরল রোগে আক্রান্ত রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের টেগাটাপাড়া গ্রামের স্বর্ণালীর উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার দৈনিক জনকণ্ঠের শেষের পাতায় এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর স্বর্ণালীর সার্বিক খোজ-খবর নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা।

সোমবারই তাকে রাজশাহীতে নিয়ে এসে পরীক্ষা-নিরিক্ষার জন্য উদ্যোগ নেয়া হলেও স্বর্ণালীর বাবা বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তা হয়নি। তবে আজ মঙ্গলবার তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হবে।রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার শাহা জানান, সোমবার সকালে জনকণ্ঠে খবর দেখার পর তিনি নিজ উদ্যোগে দুজন স্বাস্থ্যকর্মিকে স্বর্ণালীদের বাড়িতে পাঠান।

সকালে তার বাড়িতে দুজন স্বাস্থ্যকর্মি ছুটে গিয়ে খোজ খবর নেন। তারা তাকে রাজশাহী নিয়ে আসতে চাইলেও স্বর্ণালীর বাবা বাসার বাইরে অবস্থান করায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। সিভিল সার্জন জানান, স্বর্ণালীর হাতের সব ধরনের চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাকে রাজশাহীতে নিয়ে এসে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করা হবে।

এরপর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেখানো হবে। তাদের পরামর্শক্রমে যদি সম্ভব হয় তাহলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই ভর্তি করা হবে। যদি আরো উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাহলে ঢাকায় পাঠানো হবে।

মুক্তামণিকে যেভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে স্বণালীকেও প্রয়োজনে সেভাবে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করে তোলা হবে। তার সুস্থ্য হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন স্বাস্থ্য বিভাগ তা করবে বলেও জানান রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার শাহা। এদিকে জনকণ্ঠে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর সোমবার গণমাধ্যম কর্মীরাও ভিড় জমান স্বর্ণালীদের বাড়িতে।

প্রসঙ্গত, জন্মের সময় ছোট কালো দাগ থেকে স্বর্ণালীর পুরো হাতেই ছড়িয়ে পড়েছে বিরল এ রোগ। এ নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েন স্বর্ণালীর বাবা-মা। স্বর্ণালীর বয়স এখন ১২ বছর। স্থানীয় নোনামাটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সে। তার বাবা আবদুল মান্নান দুর্গাপুরের দাওকান্দি কলেজের পিওন ও মা রুমা বেগম গৃহীনি।

তাদের ঘরে দ্বাদশ শ্রেণী পড়ুয়া একজন ছেলে সন্তানও রয়েছে। স্বর্ণালীর ডান হাতে জন্মের পর থেকে কালো দাগ থেকে এ রোগের উৎপত্তি। বিরল এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই ভেবে এতোদিন ডাক্তার দেখান নি বাবা-মা। তবে পত্রপত্রিকায় মুক্তামণির রোগ ও চিকিৎসার নিয়ে খবর প্রকাশের পর তা দেখে মনে সাহস জেগেছে তাদের।

এ রোগ ভালো হয়ে যেতে পারে এ আশায় তারা ছুটে যান চিকিৎসকের কাছে। তবে অপারেশন বাবদ যে টাকার হিসেব দেয়া হয়েছে তাতে কোনোভাবেই সম্ভব নয়, ভেবে আবার পেছনে হাটেন বাবা-মা। স্বর্ণালীর মা রুমা বেগম ও বাবা আব্দুল মান্নান জানান, মুক্তামণির হাতে যে বিরল রোগ, তার মেয়ের হাতেও একই রোগ বাসা বেধেছে।

ক্রমেই হাত মোটা ও ভারি হয়ে যাচ্ছে। হাতে ছোট ছোট গুটি ও মাংসপিন্ডর মত বেড়ে উঠছে ক্রমেই। ডান হাতের পুরোটা এখন ছড়িয়ে পড়েছে। নিচের অংশ ঝুলছে চামড়া। মাঝে মাঝে পেকে পুজ বের হয়। তখন ব্যাথায় কাতর হয়ে উঠে স্বর্ণালী।

অজ্ঞাত ও বিরল রোগ জেনে তারা এতোদিন আস্থা হারিয়ে ফেলেন। আর চিকিৎসক দেখান নি। এরপর পত্রিকা ও টেলিভিশনে মুক্তামণির খবরের পর তারা মিলিয়ে দেখেন মুক্তামণির মতোই স্বর্ণালীর অবস্থা। স্বর্ণালীর মা রুমা বেগম জানান, মেয়ে যত বড় হচ্ছে তত বাড়ছে রোগের পরিধি।

এ নিয়ে তারা চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মুক্তামণির চিকিৎসা যেভাবে হয়েছে, তার মেয়ে স্বর্ণালীর চিকিৎসাও সেভাবে হবে। প্রয়োজন শুধু সহায়তা। এজন্য তিনি সরকারের পাশাপাশি বিত্তবাণদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন