বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভীক প্রাণী হানি ব্যাজার

বিচিত্র

বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভীক আর অস্থিরচিত্ত প্রাণী কোনটি বলতে পারেন? উত্তর, হানি ব্যাজার। বেজি সদৃশ প্রাণীটি কোনোকিছুকেই পরোয়া করে না। এটা কিন্তু মুখের কথা নয়, বলছে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড।

হানি ব্যাজারের অকুতোভয় হওয়ার বহু কারণ রয়েছে। এদের দেহের চামড়া পুরু। রাবারের মতো ত্বক স্ট্রেচ করে বলে বর্শা বা বল্লম নিক্ষেপ করে তাদের বশ করা সম্ভব নয়, বরং তাদের গায়ে বর্শা ল‍াগ‍ার পর না বিঁধে ধাক্কা খেয়ে উল্টোদিকেই সরে যাবে। এই চামড়া হানি ব্যাজারদের শিকারিদের কামড় থেকে রক্ষা করে।


যেহেতু এরা স্ট্রেচ করতে পারে সেহেতু বডি টুইস্টের মাধ্যমে শিকারিদের হাত থেকে সহজেই নিজেকে রক্ষা করতে পারে। যদি কখনো কোনো প্রাণী তাকে কব্জা করে বা মেরেই ফেলে, শিকারি প্রাণীটিকে কম ধকল সইতে হয় না। উপরন্তু জীবনে দ্বিতীয়বার হানি ব্যাজার শিকার করার অ‍াগে একবার হলেও ভাববে তারা।

হানি ব্যাজার নামকরণের কারণ এরা মধু ও মৌমাছির শূককীট খায়। অ‍াফ্রিকান হানি বি’র মতো ভয়াবহ মৌমাছি, যারা কিলার বি নামে পরিচিত তারাও কামড়ে হানি ব্যাজারদের পরাস্ত করতে পারে না। কারণ পৃথিবীর কোনো ধরনের বিষ বা কোনো প্রাণীর কামড় হানি ব্যাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। এমনকি সাপের বিষও না।


একটি হানি ব্যাজার জীবনে কিং কোবরা ও পাফ আদার্সের মতো সাপের কামড় কয়েকবার খেয়েও দিব্যি বেঁচে থাকে। তবে পাফ অ‍াদার্সের মতো সাপ কামড়ালে হানি বাজার ঘণ্টা দু’য়েকের মতো বেহ‍ুঁশ হয়ে পড়ে থাকে, তবে নির্দিষ্ট সময়ের পর ঠিকই সে সচল হয়ে ওঠে ও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করে। ছোট এ প্রাণীটি কীভাবে ভয়ানক এসব বিষ প্রতিরোধ করে তার সঠিক উত্তর এখনও জানা যায়নি। অনেকের ধারণা, তাদের চামড়ার ধরন এমনই যে হয়তো সাপের বিষ ভালোভাবে শরীরে প্রবেশ করে না। যার ফলে বিষের স্থায়ীত্ব বেশিক্ষণ থাকে না হানি ব্যাজারের দেহে।

বলা যায়, হানি ব্যাজারের সঙ্গে লড়াইয়ে যাওয়া সাপের পক্ষেই বোকামি। কারণ কোনো সাপ হানি ব্যাজারের হাতে পড়ে বেঁচে ফিরবে এটাই বিরল। সাপ ধরেই খাওয়া শুরু করে সে।


তীক্ষ্ণ ও ধাঁরালো দাঁতের হানি ব্যাজারের চোয়ালেও দারুণ জোর। হানি ব্যাজার যখন কোনো প্রাণী শিকার করে তখন তার আপাদমস্তক খেয়ে ফেলে। হাড়গুলোকেও আস্ত রাখে না এরা। এদের চোয়াল এতটাই মজবুত যে কচ্ছপের খোলসও নির্দ্বিধায় সাবাড় করতে পারে।

হানি ব্যাজার শিকারের ক্ষেত্রে কৌশলী। এরা শিকারের গতিবিধির ওপর লক্ষ্য রাখে। মধুসন্ধানী পাখি আর মৌমাছির দিকে এরা নজর রাখে। যাতে সহজেই মধুর সন্ধান পাওয়া যায়। হানি ব্যাজার হিংস্রতা মানে না, সে মোটামুটি সব প্রাণীর শত্রু। তবে তারও শত্রু রয়েছে, যেমন- চিতাবাঘ ও সিংহ। হানি ব্যাজার যেমন সিংহ ও চিতার হাতে মারা পড়ে তেমনি হানি ব্যাজারও সিংহদের সমানে তাড়া করে। সুযোগ পেলে মেরে খেয়েও ফেলে!


দ্রুতগামী হানি ব্যাজার উচ্চতায় নয় ইঞ্চি থেকে ১১ ইঞ্চি হয়। পুরুষ হানি ব্যাজারের ওজন নয় কেজি থেকে ১৬ কেজি পর্যন্ত হয় ও নারী হানি ব্যাজারের ওজন হয় পাঁচ কেজি থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত।

মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তারা মাটিতে নিজের লুকানোর মতো গর্ত খুঁড়ে নেয়। এদের বসতি সাধারণত আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত। এরা সাধারণত দলবেঁধে থাকে না। একাই চলাফেরা ও শিকার করে। শুধু বংশবৃদ্ধির সময়ে জোড়া বেঁধে চলে। হানি ব্যাজারের ২৪ বছরের জীবনের খাদ্যতালিকা বিরাট বড়। তালিকায় রয়েছে শজারু, ছোট কুমির, তরমুজ, বেরি, শিকড়, বিচ্ছু, সাপ, ডিম, পোকামাকড়, ইঁদুর, পাখি, ফল, ব্যাঙ, মানুষের মরদেহ, মধু, ভেড়া, ঘোড়া ইত্যাদি।


তারা নিজেরা শিকারে সিদ্ধহস্ত। তাছাড়া চলার পথে মৃত কোনো প্রাণী দেখলেও খেয়ে নেয়। হানি ব্যাজারের পানির চাহিদা পূরণের মূল উৎস হচ্ছে রক্ত। এদের জীবনের খাদ্যতালিকার অর্ধেক জুড়েই রয়েছে সাপ।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

বাংলানিউজ-http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/470717.html