বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে রাবিসাসের সেমিনার

রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজন জ্ঞান প্রযুক্তি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য গণমাধ্যমের যে কর্পোরেট হাউজগুলো রয়েছে তাদেরকে মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন হতে হবে। সেই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য যেটা প্রয়োজন সেটা হলো গণমাধ্যমের অর্থনৈতিক মুক্তি।’

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীনস্ কমপ্লেক্সে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন।

সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন তথ্যাদি প্রকাশের পাশাপাশি গণমাধ্যম অসহায় ও মানবাধিকার বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠ তুলে ধরতে তাদের পাশে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম কর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া গণমাধ্যম কর্মীদের শক্তিমাত্রা, একতা, আত্মশুদ্ধি বাড়াতে না পারলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কখনোই সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।

রাবিসাসের সভাপতি এম এ সাঈদ শুভর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলমের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান। আলোচক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডীন প্রফেসর বিশ্বজিৎ চন্দ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান ও ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে।

রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিসিডি বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত র্যালি ও সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মামুন আব্দুল কাইয়ুম।

‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা : সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বলেন, গণমাধ্যম হলো সমাজের দর্পন, জাতির বিবেক, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু সেই জাতির বিবেকের উপর বিভিন্ন সময় জুলুম-অন্যায় করা হচ্ছে।

প্রায়ই স্বার্থানেষী, দুর্নীতিবাজ, ক্ষমতালোভী, দূর্বৃত্তগোষ্ঠীর রোষানলে পড়ে সাংবাদিকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার উৎকর্ষ সাধনে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে সব দেশে ও সমাজে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে আসছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সংবাদপত্রের যে কর্পোরেট হাউজগুলো রয়েছে তাদেরকে মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন হতে হবে। শুধু অর্থ দ্বারা এর মুক্তি সম্ভব নয়।’

সাংবাদিকতা করতে গিয়ে যারা হত্যার শিকার হয়েছেন তারা কখনই সুবিচার পাননি বলে উল্লেখ করেন তিনি সেমিনারের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনে শহীদ ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাংবাদিক নিহত হয়েছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন রাবিসাসের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন শিমুল। অন্যদরে মাঝে বক্তব্য দেন সিসিডি বাংলাদেশের যুগ্ম-পরিচালক শাহানা পারভীন।

এর আগে দিবসটি পালন উপলক্ষে সকাল ১০টায় রাবিসাসের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীনস্ কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ছাদেকুল আরেফিন মাতিন, জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক প্রফেসর ইলিয়াছ হোসেন,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল,প্রভাষক মামুন আ.কাইয়ুম প্রমুখ।