বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীকে অপহরণ

পুঠিয়া রাজশাহী

স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করেছেন এক ইউপি সদস্য। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হওয়ায় তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ভাটোপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম জয়নাল আবেদীন (৩৬)।

স্কুলছাত্রীর (১৪) পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রায় ১৫-২০ জন লোক নিয়ে ওই স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে হামলা চালান জয়নাল আবেদীন। এসময় মেয়েটিকে নিয়ে ঘরে অবস্থান নেন তার মা। এক পর্যায়ে জয়নাল ঘরের দরজা ভেঙ্গে তার মাকে মারপিট করে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, স্কুলছাত্রীর মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে জয়নাল আবেদীনের ভাই আজগর আলী (৩৩), জয়নালের সহযোগী মোজাম্মেল হক (৪০) ও বেল্লালকে (৪৩) আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী আটক তিনজনকে পুলিশে সোপর্দ করে। এঘটনার পর স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধারের জন্য রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে থানা ঘেরাও করে।পরে পুলিশ স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধারের আশ্বাস দিলে গ্রামবাসী ফিরে যান।

পুঠিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) শাহরিয়ার খান জানান, এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা নারী শিশু নির্যাতন ও অপহরণ আইনে থানায় মামলা করেছেন। এতে তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনার আগেও জয়নাল একাধিক বিয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউপি সদস্য।

স্থানীয় কলেজ ছাত্র হারুনুর রশীদ জানান, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াত কর্মী জয়নাল আবেদীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাংসদ কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারার হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। তার ঘরে বর্তমানে স্ত্রীসহ দুই সন্তান রয়েছেন। এঘটনার ৬মাস আগে তিনি এক হিন্দু গৃহবধূকে (২২) তুলে এনে বিয়ে করেন। বিয়ের মাত্র ৬ দিন পর ওই হিন্দু নারীকে তালাক দিয়ে তিনি বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন।