বৃষ্টিহীনতায় আমের গুটি ঝরে পড়ার আশঙ্কা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী

mngo

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুকুলের পর গাছে গাছে প্রচুর আমের গুটি আসায় আমচাষীদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। গাছে গাছে পর্যাপ্ত আমের গুটি আসলেও বৃষ্টির অভাবে ঝরে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাশাপাশি চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে আমবাগান তেমন বেচাকেনা না হওয়ায় অনেকেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। অথচ বিগত সময়ে মুকুল এবং গুটি আসার সঙ্গে সঙ্গে দু’দফা আমবাগান বেচাকেনার মাধ্যমে হাতবদল হয়ে থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার আমের অনইয়ার ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় জেলার প্রতিটি আমবাগান মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে। তবে মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া ও ফাল্গুনের বৃষ্টিতে কিছু মুকুল নষ্ট হলেও আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় কোনো প্রভাব পড়বে না।

এদিকে হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাত না থাকায় আমাচাষীরা বাগানে আমগাছের গোড়ায় পানি এবং পোকার হাত থেকে আমের গুটি রক্ষার জন্য ইমিডাণ্ড ক্লোকিড এবং ছত্রাকনাশক পিণ্ড জাতীয় কীটনাশক স্প্রে করা অব্যাহত রেখেছে।

জেলায় ৫টি উপজেলায় ২৪ হাজার ২শ ৬০ হেক্টর জমিতে ১৮ লাখ ৫৮ হাজার আমগাছ রয়েছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৩ হাজার ৪ শ ৮০ হেক্টর জমিতে ৯ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮০, নবাবগঞ্জ সদরে ৪ হাজার ১শ ৫৫ হেক্টর জমিতে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯শ ৮০, গোমস্তাপুরে ২ হাজার ৯শ ১৫ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮শ ২৫, ভোলাহাটে ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৫২ হাজার ৯শ ও নাচোলে ১ হাজার ৬শ ৬০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮শ ১৫টি আম গাছ রয়েছে।

কানসাটের বাগান মালিক আনসারুল ইসলাম জানান, বাগানে প্রচুর আমের গুটি এসেছে, সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিযেছে পোকার উপদ্রোপও। তারাও পোকার হাত থেকে গুটি বাঁচাতে কীটনাশক ও স্প্রেসহ কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছেন। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত না হলে আমের গুটি ঝরে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তিনিসহ অনেকে। তবে তারা গাছের গোড়ায় পানি দিয়ে গুটি রক্ষার চেষ্টা করছেন।

শিবগঞ্জের আম ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান, জানুয়ারি থেকে চলমান হরতাল-অবরোধে সবচেয়ে বেশি সহিসংতার ঘটনা ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। আর শিবগঞ্জে সবচেয়ে বেশি আমবাগান রয়েছে। শিবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি বলে আমব্যবসায়ীসহ অনেকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

চলমান অবরোধ-হরতালের কারণে চলতি আম মৌসুমে জেলার প্রায় হাজার কোটি টাকার আম ব্যবসা ঝঁকির মধ্যে পড়েছে। যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসে তবে ঢাকাসহ বিভিন্ন মোকামের আম ব্যবসায়ীরা এবার ঝুঁকি নিয়ে জেলায় আম কিনতে আসবে না। অথচ এ সময়ে মুকুল এবং গুটি আসার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার ব্যাপারীরা আমবাগান কেনাবেচা করে থাকলেও এখন পর্যন্ত তেমন বেচাকেনা না থাকায় বাগান মালিকরা পড়েছে চরম বেকায়দায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর আমের অনইয়ার হওয়ায় জেলায় ২ লাখ ২০ হাজার মে. টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চলমান খরা, কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে কিছুটা উৎপাদন ব্যাহত হলেও লক্ষ্যমাত্রায় তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।

সুত্রঃ বাংলামেইল২৪