বেতন বন্ধ শিক্ষকদের, দারিদ্রতায় বসবাস

মন্তব্য

মন্তব্য প্রতিবেদন, লিখেছেন এ প্রকল্পে কাজ করা একজন শিক্ষক

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ) এর আওতায় অতিরিক্ত শিক্ষকদের (এসিটি) মেয়াদ শেষ হতে চলছে চলতি বছরের শেষে। সেই সাথে গত ৫ মাস ধরে এ শিক্ষকরা পাচ্ছে না বেতন। এতে হতাশা আর দারিদ্রতায় পড়েছেন প্রকল্পে কর্মরত হাজার হাজার শিক্ষক। চাকরিতে স্থায়ীকরণ ও বকেয়া বেতন দাবীতে সারা দেশের প্রায় ৬ হাজার শিক্ষকের সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলন কর্মসূচিও।

সেকায়েপ শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ এটিসি অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ২০১৪ সালের শেষ দিকে দেশের ৬২ টি জেলার ৬২টি উপজেলায় এ প্রকল্পের আওয়তায় সারা দেশে ৬ হাজার শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ের ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানে অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে তারা পাঠদান করে আসছেন। তাদের নিয়মিত ক্লাস ছাড়াও অতিরিক্ত আরও ১৬টি ক্লাস নিতে হচ্ছে। প্রকল্পের এসব শিক্ষকরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রিধারী, অনেকে বিএড ও এমএম পাশ করেছেন।

আয়েশা সাবের আলিম মাদরাসার (১২৬৭৪৩) মাননীয় সুপার আব্দুল খালেক বলেন, আমার মাদরাসায় ইংরেজি ও গণিতের দুজন সেকায়েপ শিক্ষক আছেন। এর আগে ইংরেজি ও গণিতের শিক্ষকের সংকট ছিলো। কিন্তু ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তাদের নিয়োগ দেয়ার পর থেকে এ শিক্ষকের অভাব আমার প্রতিষ্ঠানে নেই। এ দু’শিক্ষক বিষয় ভিত্তিক ছাড়াও সৃজনশীল মেধা বিকাশে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছেন। সেকায়েপ শিক্ষকদের প্রকল্প শেষ হলে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিপদে পড়তে হবে, বলেন তিনি।

সেকায়েপ শিক্ষকদের সংগঠন এসিটি অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, শুধু রাজশাহী নয় দেশের ৬২টি উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের দিয়ে উপকৃত। এ প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার শতভাগ সফল হয়েছে। আমারা বিষয় ভিত্তিক ছাড়াও ১৬টি ক্লাসসহ নানাবিধ শিক্ষা সংক্রান্ত কাজ করি। গরীব শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিনামূলে আলাদাভাবে আমারা পাঠদান করি। এ শিক্ষক নিয়োগের পর শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়া রোধ হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা বিকাশে সেকায়েপ শিক্ষকদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যে সসব প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়ার ক্লাস হতোনা সেখানেও এই সেকায়েপ প্রকল্পের শিক্ষকরাই তা চালু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রিধারী মেধাবীরা এ প্রকল্পের শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে তারা আধুনিক শিক্ষা দিয়ে আসছেন। বিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়েও রাখছে অবদান।

এসিটি মোঃ হামিদুল ইসলাম, গোদাগাড়ী, রাজশাহী বলেন, গত ৫ মাস ধরে আমরা বেতন ভাতা না পেয়ে চরমভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছি। সেই সাথে এ বছর (২০১৭) ডিসেম্বর মাসে শিক্ষামন্ত্রনালয়ের এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে দেশের ছ’হাজার শিক্ষকের চরম দারিদ্রতার সাথে হতাশায় কাটছে দিন।

এদিকে সেকায়েপ শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণ ও বকেয়া ভাতার দাবীতে এ শিক্ষকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন এসিটি অ্যাসোসিয়েশন দেশব্যাপি নানা কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। গত ১৪ নভেম্বর এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি ৬২ জেলা থেকে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।

গোদাগাড়ী উপজেলা ও রাজশাহী জেলা শিক্ষানুরাগীগন মনে করেন, সেকায়েপের এ প্রকল্পে অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা নি:সন্দেহে মেধাবী ও তরুণ। প্রকল্পভূক্ত না করে তাদের সরাসরি নিয়োগ দিয়ে এমপিওভূক্ত করে নিলে প্রতিষ্ঠান আরও উপকৃত হবে। তাই ছাত্র ছাত্রীদের কথা ভেবে সরকারের সুদৃষ্টি সকলেই কামনা করছেন।

রাজশাহী এক্সপ্রেস রাজশাহী বিভাগ কেন্দ্রিক সর্বপ্রথম ইন্টারনেট মিডিয়া। অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজশাহী সম্পর্কিত সব তথ্য গুলোকে সহজে জানার জন্য একত্রিত করে প্রকাশ করাই আমাদের লক্ষ্য। এখানে সংগৃহীত তথ্যগুলোর স্বত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের এবং আমাদের সংগৃহীত প্রতিটা এক্সপ্রেসে সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উদ্ধৃত আছে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।