বৈশাখের রঙ লেগেছে রাবির চারুকলায়

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

‘বাংলা নববর্ষ’ শব্দটি উচ্চারণেই মনের মধ্যে যেন গভীর পুলক জাগায় আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও চিরন্তন সংস্কৃতি।

যেখানে মিশে থাকে কোটি বাঙালির আবেগ আর রাজ্যের ভালোবাসা। তাইতো বর্ষবরণে উন্মুখ হয়ে উঠেছে বাঙালি জাতি। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) রাত পোহালেই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পুরনো বছরের গ্লানি মুছে নতুনের প্রত্যাশায় বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত সবাই। সার্বজনীন সেই উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলাতেও।বাঙালির সংস্কৃতিকে ধারণ করে ‘বাংলা নববর্ষ-১৪২৪’কে স্বাগত জানাতে রাত-দিন এক করে দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাই আবহমান বাংলার মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে রাবির চারুকলা অনুষদের বিস্তৃত আঙিনা।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় বাংলার প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলতে গিরগিটি, হাত পাখা, মাছ, প্রজাপতিসহ নানা রঙ ও বর্ণের মুখোশ তৈরির কাজ জোড় কদমে এগিয়ে চলছে।

পহেলা বৈশাখের চিরন্তন উৎসবকে ঘিরে নতুন সাজে এরই মধ্যে সেজেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে মহানগরী জুড়ে মূল উৎসব থাকলেও কেন্দ্রবিন্দুতে এবারও থাকছে রাবির চারুকলা বিভাগই।প্রত্যেক বছরের ন্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে অনুষদ প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে এবারও। বাঁধ ভাঙা উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনটিকে বরণ করে নিতে রাবির অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও নিচ্ছেন নানান প্রস্তুতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এই উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বুধবার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে রাবি চারুকলা অনুষদে গিয়ে দেখা যায়, বৈশাখ বরণের প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীরা দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ মুখোশ বানাচ্ছেন। আবার কেউবা রঙ করছেন।

কয়েকজনকে দেখা গেল বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বিশালাকৃতির গিরগিটি তৈরি করতে। সাম্পান তৈরি করার কাজে ব্যস্ত কয়েকজন। অনুষদ ভবনের বিভিন্ন কক্ষে চলছে নাচ-গানের মহড়া। আশে পাশের প্রতিটি মানুষই ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় গিরগিটিকে থিম হিসেবে ধরা হয়েছে।

চারুকলা অনুষদের শিক্ষক কনক কুমার পাঠক বলেন, ঋতু পরিবর্তনের মতো সমাজের মানুষ পরিবর্তিত হচ্ছে। রঙ পাল্টাচ্ছে গিরগিটির মতো। সেই চিন্তা থেকেই মূল বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে গিরগিটি। পাশাপাশি থাকছে বাঙালি সংস্কৃতির নানা উপাদান। এছাড়া বাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা, বাউল গান, ক্লাসিক গানসহ তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতি সম্পর্কে মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল বলেন, নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রতি বছর চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি অনুভূতি কাজ করে। বৈশাখে বাঙালির সংস্কৃতিকে শতভাগ ফুটিয়ে তুলতে তারা অনেক কিছুই করে থাকেন। বরাবরের মতো বাংলা সংস্কৃতির সবকিছুই থাকবে এবারের আয়োজনে।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কারুশিল্প বিভাগের শিক্ষক ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী বলেন, নতুন বছরকে বরণের সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করার জন্য তাদের শিক্ষার্থীরা দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করছে। এবারও সুষ্ঠুভাবে দিনটি উদযাপন করা যাবে বলে তার প্রত্যাশা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের কর্মসূচিতে রয়েছে পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ৯টায় উদ্বোধনী সঙ্গীতানুষ্ঠান। এর পর সকাল ১০টায় চারুকলা বিভাগের সামনে থেকে রাজশাহী অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে। এছাড়াও থাকছে যন্ত্রসংগীত, আবৃত্তি, নাটক, যাত্রাপালা ও নৃত্যানুষ্ঠান।

বাংলা, নাট্যকলা ও সংগীত, আইন, মার্কেটিং, নৃ-বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা, লোক প্রশাসনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব বিভাগের পক্ষ থেকে বর্ষবরণের বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খান বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হবে। নিরাপত্তার বিষয়ে রাষ্ট্র আরোপিত সকল বিধি-নিষেধ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রযোজ্য হবে। সবাই যাতে পহেলা বৈশাখ নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে পারে সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

খবরঃ বাংলানিউজ