বৈশাখ বরণের শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রাবি

রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

rabi

পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন। এদিন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবকিছু ভুলে এক হয় সবাই। বাংলা নববর্ষ ১৪২২ কে বরণ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী।

“অনেক আলো জ্বালতে হবে মনের অন্ধকারে ” এই স্লোগানে বাংলা প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বরণ করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে হাতে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বর্ষবরণের আয়োজন থাকছে চারুকলা বিভাগকে কেন্দ্র করে। এবারের পহেলা বৈশাখে দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ। উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীরা পালন করবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ দিনটিকে। সে লক্ষে প্রস্তুতিও চলছে সমানতালে।

দুই দিনব্যাপী আয়োজনে পহেলা বৈশাখ সকাল সাড়ে নয়টায় বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। চারুকলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. আবদুল মতিন তালুকদারের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মিজানউদ্দিন, বিশেষ অতিথি হিসাবে প্রো-ভিসি প্রফেসর চৌধরী সারওয়ার জাহান, ভারতের সহকারি হাই কমিশনার সন্দীপ কুমার মিত্র প্রমুখ।

শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূর্বের স্থানে এসে শেষ হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় বাঙালির ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচার তুলে ধরতে তৈরি করা হয়েছে প্রধান তিনটি মোটিফ। এর মধ্যে রয়েছে ‘হাতি’ ও ‘দোয়েল পাখি’ও ‘পালকি’। সঙ্গে থাকছে অশুভ শক্তি দূর করার প্রত্যয় নিয়ে ১০০ থেকে ১৫০ টি বিভিন্ন ধরনের মুখোশ।

ঐ দিন বেলা সাড়ে ১২টায় চারুকলা বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনায় বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকাল ৩ টায় রাবি রং চারুশিল্পী গ্রুপের উদ্যোগে রঙ চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা হবে। পরের দিন সকাল ১১ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে পৃথক পৃথক কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান হাতে নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা, মার্কেটিং, বাংলা, দর্শন, নাট্যকলা ও সঙ্গীত, ভূ-তত্ব ও খনি বিদ্যা, ইসলামের ইতিহাস, নৃ-বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা, লোক প্রশাসনসহ বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে বর্ষবরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা, বাঙালি ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা-ইলিশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতি সর্ম্পকে চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান আহমেদ বলেন, এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় ঘোড়াকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও বরাবরের মতো বাংলা সংস্কৃতির সবকিছুই থাকবে আয়োজনে। পুতুল, মুখোশসহ নানা ধরনের শিল্পকর্ম পহেলা বৈশাখকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করে তুলবে বলে মনে করেন তিনি।

বর্ষবরণের প্রস্তুতি জানতে চাইলে চারুকলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. আবদুল মতিন তালুকদার বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও আমরা নববর্ষকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। কর্মসূচিতে রয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও দুই দিন ব্যাপী শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মেলার আয়োজনও থাকছে।’

এদিকে বর্ষবরণের উৎসবকে নির্বিঘ্নে করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর তারিকুল হাসান বলেন, পহেলা বৈশাখে ক্যাম্পাসে সকল প্রকার নিরাপত্তার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকার কথা বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.