বোয়ালিয়া থানার ওসিসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

রাজশাহী

OC-1427195819

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি (তদন্ত) আশিকুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুেেদ্ধ গ্রেফতার ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তদন্তে।

এ সংক্রান্ত অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিতর্কিত এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ হয়রানির বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। কমিটির প্রধান আরএমপির দাঙ্গা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শাহ আবু সালেহ মো. গোলাম মাহমুদ সোমবার রাতে পুলিশ কমিশনারের দফতরে এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে ওসি আলমগীর হোসেন, ওসি আশিকুর রহমান ও ডিবির এএসআই আলামিন হোসেনকে অন্যত্র বদলিসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান উপকমিশনার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রতিবেদনের বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও দায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীরা আরএমপির কমিশনার মো. শামসুদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন দুপুর পর্যন্ত হাতে পাননি বলে জানান। তবে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও কমিশনার গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, গত জানুয়ারির শেষার্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি হিসেবে যোগ দিয়ে আলমগীর হোসেন ব্যাপক গ্রেফতার ও মামলা বাণিজ্য শুরু করেন। হরতাল ও অবরোধের মধ্যে সংঘটিত সহিংস ঘটনাকে পুঁজি করে পুলিশের এই কর্মকর্তা বাণিজ্যে মেতে ওঠেন। সহিংসতায় জড়িত নয়, এমন সব লোকজনকে বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক থেকে তুলে নিয়ে থানায় গিয়ে মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে নিম্নে ১০ হাজার থেকে উর্ধ্বে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।

বোয়ালিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে কারাগারে থাকা লোকজনকেও মামলার আসামি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

অন্যদিকে ডিবির ওসি (তদন্ত) আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মুক্তিপণ আদায়ের স্টাইলে লোকজনকে ধরে টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্যের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এদিকে গ্রেফতার বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশের পর দৈনিক যুগান্তরের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান আনু মোস্তফাসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নাশকতার ছয়টি মামলা করেন ওসি বোয়ালিয়া।

পুলিশের সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, ওসি আলমগীর ও ওসি আশিকুর রহমানের গ্রেফতার বাণিজ্যের বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে আরএমপির কমিশনার অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেন ডিসি দাঙ্গা শাহ আবু সালেহ মো. গোলাম মাহমুদকে।

তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী মহানগর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতার বাণিজ্যের শিকার ব্যবসায়ী ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ২৫ জনের সরাসরি জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এমনকি ভুক্তভোগীদের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।

এসব বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, তুলে নিয়ে গিয়ে মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন ওসি আলমগীর ও ওসি আশিক। টাকা নেওয়ার পর কাউকে থানা থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কাউকে আরএমপি ধারায় চালান করা হয়েছে।

তদন্তে আশিকের আদায় বাণিজ্যে সরাসরি সহায়তার জন্য ডিবির এএসআই আলামিন হোসেনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রসঙ্গটিও উঠে এসেছে। গ্রেফতার বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের মামলায় জড়ানো হয় বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে ডিবির ওসি তদন্ত আশিকুর রহমানের আরো দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আশিকুর রহমান শিবগঞ্জ থানার ওসি থাকার সময় গ্রেফতার বাণিজ্য ছাড়াও নাশকতাকারীদের সহায়তার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলাও রয়েছে। এরপরও তাকে নগর গোয়েন্দা পুলিশে বদলির ফলে পুলিশের বিশেষ এই সংস্থাটিতে দুর্নীতি প্রবেশ করেছে।

এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তা ছাড়াও আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়েছেন এই বিষয়ে। তাদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তা তদন্ত কর্মকর্তার সামনে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই তিন কর্মকর্তাকে রাজশাহীর বাইরে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে।

সুত্রঃ রাইজিংবিডি

Leave a Reply

Your email address will not be published.