ব্যক্তিগত স্মার্টফোনকে রূপান্তর করুন প্রফেশনাল ক্যামেরায়

তথ্য প্রযুক্তি

স্মার্টফোনের ক্যামেরা প্রযুক্তি অনেক আগেই পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরাকে হারিয়ে দিয়েছে। আমি নিশ্চিত বর্তমানে কেউ পয়েন্ট-অ্যান্ড শুট ক্যামেরাগুলো কেনার থেকে সেই মূল্যে বা কিছু টাকা যোগ করে ভালো ক্যামেরা সম্পন্ন একটি স্মার্টফোনই কিনবেন। না কেনার পেছনে অবশ্যই কোন কারণ নেই। কেননা, বর্তমানে স্মার্টফোনগুলোতে যে ক্যামেরা প্রযুক্তিগুলো যোগ করা হচ্ছে সেগুলো যথেষ্ট পরিষ্কার এবং চমৎকার আউটপুট দিতে সক্ষম। এমনকি বর্তমানে কিছু ডিভাইসে এমন কিছু ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে যেগুলো স্মার্টফোনগুলোকে বাড়তি কিছু সুবিধা, যেমন – টাইম ল্যাপ্স, শাটার কনট্রোল, ম্যানুয়াল মোড, হাই আইএসও ইত্যাদি। এই ডিভাইসগুলো দিয়ে চেষ্টা করলে কিন্তু প্রফেশনাল মানের ছবি তোলা সম্ভব। তবে প্রফেশনালি ছবি তুলতে দরকার হতে পারে কিছু ইন্সট্রুমেন্টের। তবে সব ক্ষেত্রে যে ইন্সট্রুমেন্টগুলো লাগবে তা কিন্তু নয়। যাই হোক, চলুন আমরা আমাদের ব্যক্তিগত স্মার্টফোনকে প্রফেশনাল ক্যামেরায় কীভাবে রুপান্তরিত করতে পারি সে সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

এক্সটার্নাল লেন্স

4

প্রফেশনাল মানের ছবি তোলার ক্ষেত্রে যে এক্সটার্নাল লেন্স আবশ্যক আমি তা বলছি না, তবে এক্সটার্নাল লেন্সগুলো আপনার ছবিতে যুক্ত করতে পারে নতুন এক মাত্রা। যেমন ধরুন, আপনি যদি এক্সটার্নাল লেন্স হিসেবে কোন ফিশ আই বা ওয়াইড আঙ্গেল লেন্স ব্যবহার করেন তবে আপনি কিছুটা ভিন্ন ধরণের ছবি তুলতে পারবেন। ফিশ আই লেন্সগুলো যে শুধু আপনাকে ওয়াইড অ্যাঙ্গেলেই ছবি তোলার সুবিধা দিবে তাই নয় বরং কিছুটা বৃত্তাকার ছবিও আপনি তুলতে পারবেন এই লেন্সগুলো দিয়ে যার ফলে আপনার সাবজেক্টটি হবে আরও বেশি ফোকাসড।

অন্যদিকে ওয়াইড লেন্স আপনাকে সাধারণের চাইতে বেশ কিছুটা ওয়াইডার ফিল্ডের ছবি তুলতে সাহায্য করবে। এই লেন্স ব্যবহারের ফলে আপনি সহজেই চমৎকার ওয়েডিং, ল্যান্ডস্কেপের ছবি তুলতে পারবেন। যদিও আপনি শুধু এই ক্যাটাগরিতেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না এবং কি তুলবেন না তুলবেন তার পুরোটাই নির্ভর করবে আপনার উপর।

সফটওয়্যার

চমৎকার ছবিকে আরও চমৎকার করতে পারে পারফেক্ট পোষ্ট প্রসেসিং। এমনকি, মোটামুটি মানের একটি ছবিকেও কিন্তু আপনি ভালো রকমের পোষ্ট প্রসেসিং এর মাধ্যমে অসামান্য করে তুলতে পারেন। স্মার্টফোনের জন্য বেশ ভালো কিছু এডিটিং অ্যাপ থাকা স্বত্তেও আমার মতে ভালো হয় আপনি যদি থার্ড পার্টি অ্যাপগুলো দিয়ে র (raw) ফরমাটে ছবি তুলে সেটা লাইটরুমে এডিট করেন। প্লে স্টোরে কিছু পেইড ক্যামেরা অ্যাপলিকেশন রয়েছে যেগুলো তোলা ছবিকে raw ফরম্যাটে সংরক্ষণ করার সুবিধা দেয়।

3

এক্সেসরিজ

2

আপনি যদি সত্যিই প্রফেশনাল মানের ছবি তুলতে আগ্রহী হন তবে আপনার উচিৎ হবে কিছু এক্সেসরিজ কাছে রাখা। যেমন ধরুন ট্রাইপড। ভাবছেন স্মার্টফোনের সাথে ট্রাইপড যুক্ত করবেন কীভাবে? একটু অ্যামাজনে খুঁজে দেখুন। স্মার্টফোন মাউন্ট করা যায় এমন শত শত ট্রাইপড দেখতে পাবেন সেখানে।

একটি ট্রাইপড আপনার হাতকে আরও স্থিতিশীলতা প্রদানের মাধ্যমে আপনার ছবিকে করতে পারে আরও শার্প। তাই, যদি পারেন তবে ট্রাইপড ব্যবহার করবেন।

লাইটিং

1

স্মার্টফোনে ছবি তোলার অন্যতম সমস্যা লাইটিং, তবে সমস্যাটা বেশি স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে হলেও অন্যান্য ক্যামেরা ক্ষেত্রেও কম বেশি এই সমস্যাটি আছে। স্মার্টফোনে বেশি সমস্যা হয় কেননা অন্ধকারে আইএসও বাড়ালে ছবিতে নয়েজ দেখা যায় যা ছবিত মান নষ্ট করে। অন্যদিকে স্মার্টফোনে খুব বেশি আইএসও ব্যবহারও করা যায়না। তাই আমরা কিন্তু আলাদা লাইটিং এর ব্যবস্থা করে এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পেতে পারি। এক্ষেত্রে আমরা কিছু সফটবক্সের ব্যবহার করতে পারি, মজার বিষয় হচ্ছে এগুলো খুব সহজে নিজে থেকেই একটু কষ্ট করে তৈরি করে নেয়া যায়।

শেষ কথা

আবারো বলছি, আপনাকে যে এসব এক্সেসরিজ ব্যবহার করতেই হবে তা কিন্তু নয়। ছবির মূল উপাদান হচ্ছে কম্পোজিশন এবং কম্পোজিশন ঠিক রাখলে ছবি এমনিতেও সুন্দর হয়। তবে প্রফেশনাল মানের ছবি তোলার ক্ষেত্রে এই এক্সেসরিজগুলো আপনাকে বেশ সাহায্য করবে তা আমি চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারি। বাকীটা আপনিই ভেবে দেখুন।