ভারি বর্ষণে দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

জাতীয় বগুড়া

টানা কয়েক ঘন্টা ভারি বর্ষণে দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে মানুষেরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েক জেলায় সড়কপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বর্ষণ আরো একদিন থাকতে পারে।

টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও কক্সবাজার শহরের বেশিরভাগ স্থান ডুবে গেছে। চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারন করেছে। বান্দরবানের সঙ্গেও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটির যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

বগুড়ার ধনুটে যমুনার ভাঙনে ২০টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে চার দিন ধরে বর্ষণে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। টানা বর্ষণের কারণে নগরীর নিম্নাঞ্চলে হাঁটুপানি জমেছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরে যেতে বৃহস্পতিবার মাইকিং করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস ২৪ ঘণ্টায় ১১২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে।

নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে জলজটের সৃষ্টি হওয়ায় সড়কগুলোতেযানজট দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরে যেতে বলা হয়েছে। বান্দরবান শহরের বনরুপা এলাকায় পাহাড় ধ্বসে ঘুমন্ত অবস্থায় ভাইবোনের মৃত্যু হয়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এটা চলতি মৌসুমে একদিনের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের কাকলী সিনেমা হলের মোড়, বটতলা বাজার থেকে সিঅ্যান্ডবি রোড চৌমাথা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক, সদর অশ্বিনী কুমার হল চত্বর, নগরীর অনেক এলাকার প্রধান সড়ক হাঁটুপানিতে ডুবে গেছে।

নৌপথে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় ৬৫ ফুটের কম দৈর্ঘ্যের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে ভারি বর্ষণে কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। অন্তত ২০ হাজার একর ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘেরপানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিশাল এলাকা। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে। টানা চারদিনের বর্ষণে কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা, বড়বাজার, গোলদীঘিরপাড়, টেকপাড়া, পৌর এলাকার সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। শহরের প্রধান সড়কের বাজারঘাটা ও গোলদীঘিরপাড় এলাকায় কোমরপানি জমেছে।

ধুনটে যমুনা নদীর ভাঙনে বগুড়ার রঘুনাথপুর গ্রামের ২০ ঘরবাড়ি বিলীন ও ভাণ্ডাবাড়ী এলাকায় ৭০ মিটার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ধসে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় যমুনা পাড়ের পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়েছে।