ভিড় বাড়ছে রাজশাহীর ঈদ বাজারে

রাজশাহী

আজ ৬ রমজান, এগিয়ে আসছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ও প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। রাজশাহীতে এবার ঈদের কেনা-কাটা শুর্ব হয়েছে রমজানের আগে থেকেই। ঈদের প্রধান আকর্ষণ নতুন পোশাক। তাই রোজার শুর্ব থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন কাপড়ের মার্কেটগুলোতে ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে থেকেই ঈদ বাজার শুর্ব হয়ে গেছে। পরে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপ এড়াতে এবার আগেভাগেই কেনাকাটা শুর্ব করেছেন ক্রেতারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর সাহেববাজার, আরডিএ মার্কেট, নিউমার্কেটসহ কয়েকটি বিপণিবিতানে গিয়ে দেখা যায়, নানা ডিজাইনের নতুন নতুন ঈদ পোশাকে ক্রেতা আকর্ষণের প্রতিযোগিতা শুর্ব হয়েছে দোকানগুলোতে। কেনাকাটা শুর্ব করেছেন অনেকে। বিশেষ করে মেয়েদের কেনাকাটা চলছে বেশ জোরেশোরেই। বিক্রেতারাও আশায় বুক বেধে ঈদের নতুন পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন দোকানে।

আরডিএ মার্কেটের ঈশা ক্লথ স্টোরের মালিক হুমায়ুন কবীর বাদশা বলেন, রোজার প্রথম দিন থেকে ঈদ বাজার ধরে তারা এর ১৫ দিন আগেই নতুন পোষাক তুলেছেন। এরপর ঠিক রোজার শুর্ব থেকেই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। এরই মধ্যে নতুন মাস পড়লো। চাকরিজীবীরা মে মাসের বেতন পেলে বাজারে ভিড় আরও বাড়বে।
দোকানীরা জানিয়েছেন, এবারও ঈদ উপলৰে বাজারে ভারতীয় পোশাকের আধিক্য। তবে এবার ভারতীয় নায়িকা ও সিরিয়ালের নামে তেমন কোনো পোশাক আসেনি। এর বিপরীতে বাজার দখল করেছে কিছু পাকিস্তানি পোশাক। আর শাড়ির ৰেত্রে এবার দেশিই বিক্রি হচ্ছে বেশি। সব পোশাকের দাম এখন পর্যন্ত সহনশীল আছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আরডিএ মার্কেটের লিজা ফ্যাশন হাউসের স্বত্বাধিকারী আয়েশা আক্তার লিজা জানান, এবার ঈদে মেয়েদের পোশাকের ৰেত্রে ভারতীয় ‘ওয়ান পিস’ এসেছে। এটি বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। থ্রি-পিস ‘ফ্লোর টাচ’ বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। মেয়েদের পৱাজো পাজামা বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে আট হাজার টাকায়। এছাড়া পাকিস্তানি লোন ৮০০ থেকে দুই হাজার ২০০ এবং দেশি থ্রি-পিস ৬৫০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

এখানে নিজের জন্য পোশাক কিনতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰার্থী যুথি তাবাসসুম বলেন, ‘সামনে ভিড় আরও বাড়বে, তখন দেখা যাবে একটা পোশাক ভালো করে দেখেও কেনার সুযোগ থাকবে না। তাই চাপ বাড়ার আগেই কেনাকাটা করতে আসলাম। অনেকগুলো দোকান ঘুরে কিছু কিনেছি, আরও কিছু কিনব।’

মার্কেটটির সরকার কালেকশনের মালিক সাইদুলৱাহ সরকার জানান, তার দোকানে মেয়েদের ভারতীয় ঝিপসি আড়াই হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা, বাচ্চাদের ফ্রক ও টপস এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকা, লং থ্রি-পিস এক হাজার থেকে সাত হাজার টাকা, ভারতীয় গ্রাউন্ড আট হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা এবং ছোট মেয়েদের বাহুবালি-২ বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে তিন হাজার টাকায়।

শাড়ির ভূবনের নজর্বল ইসলাম জানান, ঈদে এবার কাতান শাড়ি এসেছে। শাড়িটি দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিস্যু সিল্ক নামে ভারত থেকে একটি শাড়ি এসেছে। এটি দেড় হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মুসলিন জামদানি ও টাঙাইলের সিল্ক বিক্রি হচ্ছে সাড়ে চার থেকে ছয় হাজার টাকায়। দেশি বিভিন্ন শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন ৬৫০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকায়। তবে এবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সুতির শাড়ি। এগুলো দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

নিউমার্কেটের নেক্সট কালেকশনের বিক্রয়কর্মী রানা রহমান জানান, এখানে ছোট মেয়েদের সারারা, পার্টি ফ্রক, স্কার্ট ও ডিভাইডার ও জিপসি এক হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ছেলেদের জিনসের প্যান্ট, শার্ট ও টি-শার্ট বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকায়। তর্বণদের জন্য নতুন কিছু গ্যাবাডিং প্যান্ট ও শার্টও বাজারে এসেছে। এগুলো সুলভমূল্যে বিক্রি হচ্ছে বলেই জানান তিনি।

নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের ফড়িংয়ের মালিক মো. মাসুম জানান, ঈদ উপলৰে এবার তার দোকানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকায়। এরমধ্যে পেঁয়াজ কটন দেড় হাজার, গৌরি আড়াই হাজার ও সুজন কুমার বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকায়। এরই মধ্যে বেচাকেনা জমে উঠেছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, বিক্রি আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।
মাসুম বলেন, ৫ জুন থেকেই পুরোদমে শুর্ব হবে ঈদের কেনাকাটা। তখন হাঁটার জায়গাও পাওয়া যাবে না। বছরের এই একটা মাসই তো ধুমিয়ে বিক্রি করতে পারি, তাই ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি। তার দোকানের ক্রেতা সারোয়ার জাহান বলন, একটু আগেভাগেই কেনাকাটা করে ফেলছি এবার। শেষদিকে দাম থাকে বেশি, কাপড়ের মানও ভালো পাওয়া যায় না। তাই কিনে ফেললাম এখনই।

খবরঃ sonali sangbad

1 thought on “ভিড় বাড়ছে রাজশাহীর ঈদ বাজারে

Comments are closed.