মরুকরণের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত বরেন্দ্র ভূমি

রাজশাহী

গত এক সপ্তাহ ধরে রাজশাহীতে তীব্র তাপদাহ। এ মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। ভ্যাপসা গরমে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজশাহীবাসী। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাত্রাতিরিক্ত উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রভাব মরুময়তার শঙ্কায় ফেলেছে বরেন্দ্র অঞ্চলকে।

উত্তরাঞ্চলে নানা ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উদ্বেগের কথা জানিয়ে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়েল ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রেজাউর রহমান বলেন, দেশের মধ্যে মরুকরণের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বরেন্দ্র ভূমি। যা আরো ত্বরান্বিত হবে বলে শঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘পানি ও উদ্ভিদের সল্পতা হলো মরুময়তা। বৃষ্টিপাতের সল্পতা হলে মরুময়তার দিকে এগিয়ে যায়। বৃষ্টিপাতের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ ভাগ কম হচ্ছে। যার প্রভাব বরেন্দ্র অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে।’’

অধ্যাপক রেজাউর রহমান আরও বলেন, ‘‘কমাতে হবে কার্বন নিঃসরণ। প্রাণ ও প্রকৃতি বাঁচাতে সকলকে সচেতন হতে হবে এখনই।’’

বৈশাখ মাস শুরুর পরার পর থেকেই উষ্ণতা বাড়তে থাকে রাজশাহী অঞ্চলে। প্রতিদিন বাড়ছে তাপমাত্রা। রৌদ্রতপ্ত আবহাওয়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষদের। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তীব্র তাপদাহের সঙ্গে বইছে লু হাওয়া। ফলে ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত প্রাণ-প্রকৃতি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তাপমাত্রার পারদ প্রতিদিন উঠানামা করছে। রোববার তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কোঠায়। যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে বৃহস্পতিবারও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে। তাপমাত্রার সঙ্গে কমছে আর্দ্রতাও।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, রোববার বাতাসের আর্দ্রতা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ২৮ শতাংশে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধানও গেছে কমে। এই বৈরী দশা আরো কয়েকদিন থাকবে বলে জানান তিনি।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এখন পর্যন্ত এটিই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। ২০০৫ সালের ১২ জুন রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর ২০১৪ সালের ২১ মে উঠেছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২০১৬ সালের ২৯ এপ্রিল উঠেছিল ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর আর এই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অতিক্রম করেনি বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ Daily Sunshine