মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে পাবনার চার যুবক নিখোঁজ!

পাবনা রাজশাহী বিভাগ

সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় স্বল্প খরচে স্বপ্নের মালয়েশিয়া যাওয়ার লোভ সামলাতে না পেরে মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে এখন নিখোঁজদের তালিকায় পাবনার সুজানগরে চার যুবক। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস ধরে নিখোঁজ থাকায় পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে তাদের।

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া অভিবাসী এসব যুবকের স্বজনদের মাঝে চলছে আহাজারি। বিশেষ করে গত মে মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রথমে থাইল্যান্ড এবং পরে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে সে দেশের জঙ্গল ও সমূদ্র থেকে হাজার হাজার অভিাসীকে জীবিত ও মৃত উদ্ধারের খবর প্রকাশ পেলে এ সব পরিবারে দেখা দেয় হতাশা আর আতঙ্ক।

খোঁজ নিয়ে পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাড়ে তিন মাস আগে সুজানগর উপজেলার উলাট গ্রামের মোমিন শেখের ছেলে বাচ্চু শেখ (২৫), বারেক শেখের ছেলে বাকি শেখ (২৩), মান্নান শেখের ছেলে সাদ্দাম শেখ (২০) ও আত্তাপ শেখের ছেলে হানিফ শেখকে (২০) মানব পাচারকারীদের দালাল একই গ্রামের মনজেদ মোল্লা অল্প খরচে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে চট্টগ্রাম নিয়ে যায়।

সেখানে গিয়ে সে তাদেরকে প্রথমে ওই অঞ্চলের মানব পাচারকারীদের অন্যতম সদস্য আলাউদ্দিন ও পরে জয়নাল-রাসেলের হাতে তুলে দেয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, মনজেদ আমাদের সন্তানকে মানব পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার ৩৯ দিন পর আমরা তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা বলে আপনাদের সন্তান ভাল আছে। তবে তারা আমাদের সন্তানের সঙ্গে কথা বলার কোন সুযোগ দেয় না। এর ৫৯ দিন পর কাশেম নামে এক মানব পাচারকারী অভিবাসী বাচ্চু শেখের ভাই শফিকুলের মোবাইলে ফোন করে বলে তোর ভাইসহ আরো তিনজন এখন সমুদ্রে জাহাজে আছে।

সে একটি ব্যাংক একাউন্ট নম্বর দিয়ে বলে দ্রুত এই নম্বরে ২ লাখ ৩০ হাজার করে টাকা পাঠা। অন্যাথায় তোর ভাইদের খবর আছে। এ সময় সে বাচ্চুসহ অপর তিনজনকে তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দিলে তারাও ওই একাউন্টে দাবিকৃত টাকা পাঠাতে বলে।

সে মোতাবেক মালয়েশিয়া অভিবাসীদের অভিভাকরা গত ১৬ মে ইসলামী ব্যাংক সুজানগর শাখা থেকে ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখায় ওই নম্বরে তার দাবিকৃত মোট ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠান। এরপর দীর্ঘ দেড় মাস অতিবাহিত হতে চললেও তাদের আর কোন খোঁজখবর নেই।

এমন অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবার তাদের সন্তান কোথায় আছে এমনকি আদৌও তারা বেঁচে আছে কিনা এই চিন্তায় রাতদিন আহাজারি করছেন।

বাচ্চু শেখের ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, আমার ভাইসহ আরো তিনজনের কী অবস্থা তা আমরা কেউ জানি না। ইতিপূর্বে মানব পাচারকারীদের যে সকল নম্বরে ফোন করে তাদের খোঁজ খবর নিতে পারতাম বর্তমানে সে সকল নম্বরও বন্ধ রয়েছে। এখন সরকারের কাছে আবেদন যেকোনো ভাবে হোক আমাদের সন্তানদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।

এ ব্যাপারে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘চার যুবক নিখোঁজের বিষয়ে এখনও আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার বলেন, ‘মালয়েশিয়া গিয়ে নিখোঁজদের মধ্যে পাবনার কেউ আছে কিনা আমরা জানি না। এ রকম কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

সূত্র এবং কৃতজ্ঞতাঃ রাইসিংবিডি