মালদ্বীপের মডেল ও রাজশাহীর মেডিকেল কলেজের ছাত্রী রাওদার মরদেহ উত্তোলন করতে চায় সিঅাইডি

রাজশাহী

মালদ্বীপের মডেল ও মেডিকেল কলেজের ছাত্রী রাওদা আতিফের মরদেহের পুনঃময়নাতদন্ত করতে চায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাই কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের জন্য আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে এজন্য আবেদন করেছেন।

রাজশাহী কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আবুল হাশেম সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে মরদেহ উত্তোলনের ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি প্রয়োজন। এজন্য মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে আজ শুনানি হয়নি।

মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) অথবা বুধবার (১৯ এপ্রিল) এ আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও জানান কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক।

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল দুপুরে এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একইসঙ্গে রাওদার মৃত্যুর পর শাহ মখদুম থানায় করা অপমৃত্যুর মামলাটির তদন্তভারও সিআইডির ওপর ন্যাস্ত হয়।

রাজশাহী সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খাঁন জানান, পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে চাঞ্চল্যকর এ দু’টি মামলা তদন্ত করবে সিআইডি। সিআইডির রাজশাহীর পরিদর্শক আসমাউল হককে মামলা দু’টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সকালে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা দু’টি মামলারই কাগজপত্র আগের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন। মামলা দু’টি হলেও ঘটনা এক। তাই সিআইডির একজন কর্মকর্তাই দুই মামলার তদন্ত করবেন। পরে তদন্তে যা পাওয়া যাবে, তার উপর ভিত্তি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেবেন।

গত ২৯ মার্চ রাজশাহীর নওদাপাড়ায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাওদা আতিফের মরদেহ উদ্ধার করে শাহ মখদুম থানা পুলিশ। রাওদা ওই কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়, রাওদা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

এ ঘটনায় ওইদিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে নগরীর শাহ মখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। রাওদার মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে রাজশাহীতে দাফন করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এরপর মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীতে গিয়ে ঘটনা তদন্ত করেন। দেশে ফিরে গিয়ে তারা জানান, রাওদাকে হত্যার কোনো প্রমাণ পাননি।

এদিকে, রাওদার মৃত্যুর ঘটনায় কলেজের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাওদা আত্মহত্যা করেছেন। তবে গত ১০ এপ্রিল তার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, রাওদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

মামলায় রাওদার বান্ধবী সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সিরাতের বাড়ি ভারতের কাশ্মীরে। তবে সিরাতের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাকে সোমবার পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি। তাকে গ্রেফতার করা হবে কী-না সে ব্যাপারেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।

খবরঃ বাংলানিউজ

4 thoughts on “মালদ্বীপের মডেল ও রাজশাহীর মেডিকেল কলেজের ছাত্রী রাওদার মরদেহ উত্তোলন করতে চায় সিঅাইডি

Comments are closed.