মুঠোফোনে আত্মহত্যার প্ররোচনার প্রমান

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদকিতা বিভাগের শিক্ষক আকতার জাহান জলির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সহকর্মী আতিকুর রহামন রাজাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। প্রায় দুইদিন গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার বিকেলে আকতার জাহানের আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ রাজাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। মুঠোফোনে জলিকে আত্মহত্যার প্ররোচনার প্রমান মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মতিহার থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, আকতার জাহানের মৃত্যু ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই তাকে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নেওয়া হয়েছে। পরে আদালত থেকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে নগরীর তালাইমারী এলাকা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য নেওয়া হয় বলে জানান ওসি হুমায়ন কবীর।

আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি সাবেক সহকারি প্রক্টর। শিক্ষক আকতার জাহানের সঙ্গে আতিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। আর এই সূত্র ধরে আকতার জাহানের মুঠোফোনের কল রেকর্ড চেক করে আতিকুর রহমানকে জিজ্ঞাবাদের জন্য গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেয়া হয়। শিক্ষক আকতার জাহানের সঙ্গে আতিকুর রহমান নিয়মিত যোগাযোগ করতেন বলেও পুলিশ প্রমান পেয়েছে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার আল আমিন বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে নগরীর তালাইমারী এলাকা থেকে আকতার জাহান জলির অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেয়া হত্যা যাচাই বাছাই করা হয়। সেসব তথ্যে আকতার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পিছনে রাজার জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জলি ও রাজার মুঠোফোনে আত্মহত্যার প্ররোচনার প্রমান পাওয়া যায়। এর পর বিকেলে আকতার জাহানের আত্মহত্যায় প্ররোচণা মামলায় আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত আত্মহত্যা প্ররোচনায় শুধুমাত্র আতিকুর রহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তার সাবেক স্বামীর বিষয়ে মুঠোফোনসহ বিভিন্ন খোঁজ খবর করা হয়েছে। কিন্তু তার সংশ্লিষ্টতা এ ঘটনায় এখনো পাওয়া যায়নি। তার তদন্তে তার ব্যাপারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুবেরী ভবনে নিজ কক্ষ থেকে আকতার জাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় তার কক্ষ থেকে ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে অজ্ঞাতনামাদের নামে নগরীর মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন আকতার জাহানের ছোটো ভাই কামরুল হাসান।

আকতার জাহানকে তার সাবেক স্বামী তানভীর আহমদ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেন বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় ও ফেসবুকে অভিযোগ ওঠে। এমনকি বিভাগের শিক্ষকরাও তার বিরুদ্ধে আকতার জাহানকে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত সাবেক স্বামী তানভীরের সম্পৃক্ততা পায়নি।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন