মুড়ির মতো কাঁচা মরিচ খান রাজশাহীর মোবারক মোল্লা

রাজশাহী

মুড়ির মতো কাঁচা মরিচ খান রাজশাহীর মোবারক মোল্লা। ষাটোর্ধ এই বৃদ্ধকে এলাকায় সবায় ‘মরিচ খাওয়া মোবারক’ বলেই চেনেন। মোবারক মোল্লা জেলার চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের হলিদাগাছী পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। কাঁচা মরিচ খাওয়া নিয়ে তার সঙ্গে বাজি ধরে পেরে ওঠেননি কেউই।

তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক মোবারক মোল্লা। ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই। নাতি-নাতনি নিয়ে এখন ভরা সংসার তার।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মোবারক মোল্লার হাতে এখন কোনো কাজ নেই। সময় কাটে হেসেখেলেই। তবে শৈশবের মরিচ খাওয়া এখনো ঠিকই ধরে রেখেছেন তিনি। এই বিশেষ কারণে এলাকায় তার অন্যরকম পরিচিতি।

মোবারক মোল্লার কাঁচা মরিচ খাওয়া পরখ করতে চাইলে তিনি রাজি হয়ে যান সানন্দেই। থালাভর্তি কাঁচামরিচ এগিয়ে দেন পুত্রবধূ নাসিমা বেগম। থালা হাতে নিয়ে মুড়ির মতো মরিচ খেতে শুরু করেন মোবারক।

অল্প সময়য়ের মধ্যেই সব মরিচ সাবাড়! আরও মরিচ খেতে চাইলেন তিনি। কিন্তু তাকে বাধ সাধলেন স্ত্রী জাহানারা বেগম। তিনি জানান, আগে ইচ্ছেমত মরিচ খেয়েছেন। কিন্তু এখন বয়স হয়েছে। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা ভেবেই আগের মতো আর মরিচ খেতে দেন না।

কাাঁচা মরিচের স্বাদ কেমন জানতে চাইলে মোবারক মোল্লার সোজা জবাব, ঝাল চকলেটেরমত। মরিচ খেলে সমস্যা নয় বরং শরীর ভালো থাকে তার। এক সঙ্গে তিনি সর্বোচ্চ দুই কেজি পর্যন্ত মরিচ খেয়েছেন। আরও খেতে পারতেন, কিন্তু কেই তাকে খেতে দেয়নি।

মরিচ খাওয়ার শুরুর কথা বলতে গিয়ে মোবারক জানান, শৈশবে মাঠে কাজ করতে গিয়ে একদিন গাছভর্তি কাঁচা মরিচ ঝুলতে দেখেন। একটা মরিচ তুলে মুখে দিলেও সেদিন ঝাল লাগেনি তার। এতে অবাক হন নিজেই। এ ঘটনা অন্যদের জানালে কেউ বিশ্বাসই করছিল না। উল্টো চ্যালেঞ্জ করে বসলো। সেইবার একের পর এক মরিচ খেয়ে চ্যালেঞ্জ জিতে যান মোবারক। সেই থেকে তার মরিচ খাওয়া শুরু।

মোবারক মোল্লার স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, আমার বিয়ের আগে থেকেই শুনেছি তিনি মরিচ খেতে পারেন। শুরুতে এই কথা বিশ্বাস হচ্ছিলো না। কিন্তু শেষে দেখা গেলো তিনি সব সময় মুড়ির মতো মরিচ খাচ্ছেন।

পুত্রবধূ নাসিমা বেগমের বাবার বাড়ি নাটোরের সিংড়ায়। তিনি জানান, একবার তার বাবার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন শ্বশুর মোবারক মোল্লা। সকালে নাস্তা না খেয়ে মরিচ খেয়েছিলেন তিনি। সেই থেকে এলাকায় তার পরিচিতি ‘মরিচ খেকোর পূত্রবধূ’।

মোবারক মোল্লার মরিচ খাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পুষ্টিবিদ আনসিয়া পারভিন সুরভি বলেন, কাঁচা মরিচে ক্যাপসাইসিন নামে একটি পদার্থের উপস্থিতির জন্য ঝাল লাগে। জিহ্বায় স্বাদগ্রন্থি কম থাকলে ঝালও কম লাগবে। মোবারক মোল্লার ক্ষেতে এমনটি ঘটে থাকতে পারে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ জাগোনিউজ২৪