মুম্বাইয়ে ১৬টি ‘নো সেলফি’ জোন

আন্তর্জাতিক

সেলফি জ্বরে প্রচণ্ডভাবে কাঁপছে বর্তমান বিশ্ব। বিষয়টাকে অনেকেই জীবনের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে ফেলেছেন যে, ঘরে-বাইরে যেখানেই মন চাইছে সেখানেই নিজের একটা ছবি তুলে পোস্ট করছেন অনলাইনে। কেউ কেউ তো জীবনের ঝুঁকিও নিয়ে বসছেন। মৃত্যুর ঘটনাও কম ঘটেনি এসব করতে গিয়ে। আর তাই ভারতের মুম্বাইয়ে ১৬টি ‘নো সেলফি’ জোন ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতে সেলফি তোলার প্রবণতা এতোটাই বেড়ে গেছে যে, দেশজুড়ে প্রায় প্রতিটা শহরে প্রতি মুহূর্তে কাউকে না কাউকে মোবাইল ফোন সামনে ধরে সেলফি তুলতে দেখা যায়। সাধারণ জনগণ তো আছেনই, এ ব্যাপারে পিছিয়ে নেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেও। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সফরে, অনুষ্ঠানে তাকেও বহুবার দেখা গেছে সেলফি তুলতে।

সানফ্রান্সিসকো ভিত্তিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রাইনোনমিকস জানিয়েছে, ২০১৪ সালের পর এ পর্যন্ত সেলফি তুলতে গিয়ে বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের। এর মধ্যে ১৯ জনই মারা গেছেন ভারতে।

বিপজ্জনক এ প্রবণতা হ্রাসে তাই এবার এগিয়ে এসেছে মুম্বাই পুলিশ। শহরে ১৬টি ‘নো সেলফি’ জোন ঘোষণা করেছে তারা। এসব জায়গায় কেউ নির্দেশ অমান্য করলে এক হাজার দু’শ রুপি (১ হাজার ৪০৬ টাকা) জরিমানা গুণতে হবে বলে এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে।

মুম্বাই পুলিশের কর্মকর্তা ধনঞ্জয় কুলকার্নি বলেছেন, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে মুম্বাইয়ের ব্যান্ডস্ট্যান্ড ফোর্টে বিপজ্জনকভাবে সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ হারান ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী। তার মৃত্যুর পর শহরের বিপজ্জনক জায়গাগুলো চিহ্নিত করে পুলিশ। এমন ১৬টি জায়গাকেই ‘নো সেলফি’ জোন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া মানুষ যেন যত্রতত্র সেলফি তুলতে উদ্যত না হয়, সে জন্য প্রচারণারও উদ্যোগ নিচ্ছি আমরা।

এছাড়া, চলতি মাসের প্রথম দিকে নাসিক শহরে পিকনিকে গিয়ে একটি বাঁধের খাড়া চূড়ায় সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ হারান ১৮ বছর বয়সী এক কলেজ শিক্ষার্থী। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি পানিতে পড়ে যান। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ যায় তার বন্ধুরও।

এর আগে তামিলনাড়ুর কোল্লি পাহাড়ে এক চূড়ায় একইভাবে সেলফি তুলতে গিয়ে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এক প্রকৌশলী শিক্ষার্থী।

২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে তাজমহল বেড়াতে যাওয়ার সময় দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া একটি ট্রেনের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ হারান তিন তরুণ।

বাংলানিউজ-http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/468870.html