যেভাবে বাংলাদেশে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’

জাতীয়

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ভারতের ওরিষা হয়ে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে ধেয়ে আসতে পারে বাংলাদেশে। আঘাত হানতে পারে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে। এজন্য মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেত ঘোষণার পর থেকেই দেশের উপকূলের সর্বত্র প্রস্তুতি-সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। তবে যদি ‘ফণী’ ভারতের ওরিষায় না গিয়ে বাঁক ঘুরে সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলে থেয়ে এসে আঘাত হানে তাহলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা হতে পারে মারাত্মক ধরনের। তাই সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে এবং উপকূলীয় জেলা-উপজেলাগুলোতে সম্ভাব্য দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বয় সভা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ মে) সকাল ১০টার দিকে আবহাওয়া অধিদফতর থেকে দেয়া আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ক্রমিক নম্বর ২৮ (আটাশ)-এ এসব সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান বলেন, আগামীকাল শুক্রবার সকাল থেকে বাংলাদেশে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে বৃষ্টি এবং ঝড়ো বাতাস থাকতে পারে। তবে সন্ধ্যার দিকে উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

এবিষয়ে তিনি আরও বলেন, সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। প্রতি ঘন্টায় ১৭০ কিলোমিটার বাতাসের শক্তি হাজার কিলোমিটার ব্যাসের বিস্তার নিয়ে এ ঝড় শুক্রবার দুপুর নাগাদ ওরিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় “ফণী” সামান্য উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১৬.০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৪.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ অবস্থান করছে। এটি বৃহস্পতিবার (০২ মে) সকাল ০৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৬৫ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২৫ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১৫ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯২৫ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার (৩ মে) বিকাল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে এবং পরবর্তীতে উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে হয়ে শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে। খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শুক্রবার (৩ মে) সকাল নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুরু হতে পারে।

উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ সাত নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ছয় নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ব্যাপক শক্তি নিয়ে উড়িষ্যা উপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী। মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় বাংলাদেশে যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে

ঘূর্ণিঝড় ফণীকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কেন্দ্র। দেশের সবগুলো প্রস্তুতি কেন্দ্র ইতোমধ্যেই সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর বরগুনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক কিশোর কুমার সরদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের এলার্ট করা হয়েছে। কী কী করণীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সে অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। স্বেচ্ছাসেবকদের বলা হয়েছে তারাও সতর্ক আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতির যদি অবনতি হয় তাহলে মাইকিং সহ লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনতে মাঠে নামার কাজও শুরু হবে।’

এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এছাড়াও প্রস্তুত রয়েছে, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টসহ আরও অনেক স্থানীয় সামাজিক সংগঠন।