যেমন আছে রাজশাহীর সংগীতাঙ্গন

রাজশাহী

rjsh

এক সময় রাজশাহীর সংগীতাঙ্গন প্রতিষ্ঠিত সংগীত গুরুদের উপস্থিতিতে সরগরম ছিলো। তবে বর্তমান সময়ে সেই স্বর্ণযুগ রাজশাহীতে আর নেই বলে মনে করছেন অনেকে। শাস্ত্রীয় সংগীতে দু’জন ওস্তাদ ছাড়া তেমন কোন উল্লেখযোগ্য মানুষ এখন আর রাজশাহীতে নেই। এ কারণে রাজশাহীতে সংগীতের জন্য এখন বেশ খারাপ সময় যাচ্ছে বলে মনে করেন রাজশাহী সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ কুমার ঘোষ।

দীলিপ কুমার ঘোষ জানান, সংগীত জগতে এক সময় রাজশাহীর সুনাম ছিলো। অনেক নামদামী ওস্তাদ এখানে থাকলেও এখন অবস্থা বিপরীত। বেশিরভাগ ওস্তাদ প্রয়াত হয়ে যাওয়ার কারণে সংগীত জগতে ভাটা পড়েছে। রাজশাহীতে শাস্ত্রীয় সংগীতে অমরেশ রায় চৌধুরী ও মঞ্জুশ্রী রায় ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই। সব মিলিয়ে রাজশাহী একটি খারাপ সময় পার করছে।

রাজশাহীতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির পাশাপাশি, ঐক্যতান সংগীত বিদ্যালয়, বিমূর্ত শিল্পকলা একাডেমি, সংগীত শিক্ষা ভবন, হিন্দোল সাংস্কৃতিক গোষ্ঠিসহ ২৫টি একাডেমি শিক্ষার্থীদের সংগীত শিখিয়ে থাকে।

খারাপ সময়ের বিবরণ দিতে রাজশাহীর মহিষবাথান এলাকার ঐক্যতান সংগীত বিদ্যালয়ের পরিচালক ও সংগীত শিক্ষক আব্দুল রশিদ জানান, খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে তারা যাচ্ছেন। রাজশাহীর অনেক সংগীত বিদ্যালয় শিক্ষার্থীর অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সংগীত বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী না পাওয়ার কারণে এখন সংগীত শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগীত শিক্ষা দিয়ে আসছেন।

কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনিও টেনে আনলেন কোচিং সমস্যার কথা। কোচিং সেন্টারগুলোই এর পেছনে মূলত দায়ি বলে মনে করেন তিনি। সংগীত চর্চার জন্য শিশুরা আর আগের মতো সময় পাচ্ছে না। স্কুলের পড়া, পাশপাশি কোচিংয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা এবং প্রাইভেট শিক্ষকের পড়ার কারণে সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে একেবারেই দূরে সরে যাচ্ছে শিশুরা।

আব্দুল রশিদের মতো অনেকেই হতাশার কথা শুনালেও বিমূর্ত শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক সৈয়দ শফিক শোনালেন অন্য কথা। তিনি মনে করেন, যারা সংস্কৃতির মর্যাদা বোঝেন তারা এটি ছাড়া কখনোই শিশুদের বিকাশের কথা ভাবতে পারবে না।

সৈয়দ শফিক বলেন, ‘আমার একাডেমিতে সংগীত, নাচ, আবৃত্তিসহ ১১টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ আছে। যাদের ইচ্ছে আছে তাদের জন্য এ ছোটখাটো বাধা তেমন কিছুই না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.