যৌন হয়রানির প্রতিবাদে রাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

‘শুধু ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, এখন দেশের সব স্থানেই নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কিন্তু তারা মুখ বুঝে এসব হয়রানি সহ্য করে যাচ্ছেন। এখন সময় এসেছে, সেই নিপীড়কদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার।’ রবিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে পহেলা বৈশাখে টিএসিতে নারী লাঞ্চনার প্রতিবাদ ও দ্রুত বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন শিক্ষার্থীরা।

ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত সুলতানা বৃষ্টির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা যৌন বিভিন্ন সময় হয়রানি হওয়ার কুৎসিত অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সালিন, তৃতীয় বর্ষের মোহনা, রেহেনুমা শারমিন সমাপ্তি, আইরিন খান, সৌমিতা ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আফিফা চেরিসহ অনেকেই কথা বলেন।IMG_20150419_112227914

প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাশা আল আইরিন খান বলেন, ‘আমরা শুধু ঢাকার যৌন হয়রানির কথাই জানি। কিন্তু পহেলা বৈশাখে এই ক্যাম্পাসেই আমার চোখের সামনে এক দম্পতিকে যৌন হয়রানি করা হয়েছিলো। গত শনিবার সন্ধ্যায় পথ চলার সময় আমার দিকে পাথর ছুড়ে মারা হয়েছে। গালি দিয়ে অশ্লীল ইঙ্গিত করা হয়েছে। এগুলো হয়তো এখানে কম ঘটছে তাই আমরা জানি না। কিন্তু প্রতিদিনই এমন ঘটনা ঘটছে।’

মানববন্ধনে রেহেনুমা শারমিন সমাপ্তি নিজের অভিজ্ঞতার কথায় বলেন, ‘একদিন আমি বিশ্বদ্যিালয়ের কাজলা গেট থেকে অটোরিকশা যোগে বাজারে যাচ্ছিলাম। এসময় একজন ছেলে আমার দিকে গোটা পথ এমনভাবে তাকিয়ে ছিল যেন আমায় গিলে ফেলবে। শুধু এসময় নয়, প্রতিটি সময় আমরা এভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।’

এসময় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আফিফা চেরি বলেন, ‘যৌন হয়রানি বন্ধে বোরখা কোনো সমাধান নয়। যারা বোরখা পরেন তারাও নানাভাবে আরো বেশি যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা দীর্ঘ দিন যৌন হয়রানি সহ্য করেছি, আর না। সকল মেয়েরা এখন এক হয়ে সেই নিপীড়কদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।’

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভাবতে কষ্ট হচ্ছে দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও নারীরা এভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। যদি দেশে কখনো কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হয় তাহলে নারীদের কী অবস্থা হবে সেটা কল্পনাও করা যায় না। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচার চাইতে থাকবো। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ততোদিন পর্যন্ত খোলা চিঠি দেবো যতোদিন পর্যন্ত এ নরপশুদের বিচার না হয়।’

ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মৌমিতা বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রত্যেকটা মেয়েই রাস্তায়, বাসে এমন কি বাড়িতেও কোনোনা কোনো ভাবে প্রতি মুহুর্তে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। যারা বোরখা পরছে তারাও হচ্ছে। আমরা আর পোষাকের দোহাই শুনতে চাই না। যারা যৌন হয়রানি করছেন তারা সাবধান হন। আপনাদের সময় শেষ হয়ে এসেছে।’

মানববন্ধন শেষে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে তারা একটি র‌্যালি বের করেন। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবন প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ হিসেবে তারা সাবাস বাংলার মূর্তির চোখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.