রাজশাহীতে অটোরিকশা জব্দের কারণেই পুলিশের ওপর হামলা

রাজশাহী

রাজশাহীতে পুলিশের ওপর হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক হামলাকারীর নাম রফিকুল ইসলাম (৩৬)। তিনি মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার ছোটবনগ্রাম এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (০৩ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে নিজ বাড়ি থেকে ওই হামলাকারী যুবককে আটক করে।

সিএনজিচালতি অটোরিকশা জব্দ করায় ওই হামলাকারী যুবক ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ কনস্টেবলের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে আটকের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকাররোক্তি দিয়েছেন।

বুধবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল জানিয়েছেন তিনি চিকন চাকার অটোরিকশা চালান। মঙ্গলবার দুপুরে একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট লক্ষ্মীপুর মোড়ে ডিউটি করার সময় তার অটোরিকশাটি জব্দ করেন। চিকন চাকার অটোরিকশা মহানগরীতে চালানো নিষিদ্ধ হওয়ায় সেটি পরে ট্রাফিক সার্জেন্ট জব্দ করে ট্রাফিক অফিসে পাঠায়। এই ঘটনায় তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। পরে তিনি ভাঙির দোকান থেকে একটি লোহার রড সংগ্রহ করে ট্রাফিক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।

একপর্যায়ে ট্রাফিক কার্যালয় থেকে হেলমেট হাতে ভিকটিম কনস্টেবল জয় কুমারকে বের হতে দেখেন। তখন কনস্টেবল জয়কে ট্রাফিক পুলিশের লোক মনে করে তার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায় রফিকুল। হাতে থাকা রড দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল জয় কুমারের মাথায় ও হাতে এলোপাথারি আঘাত করে রক্তাক্ত করেন রফিকুল।

এ সময় ওই পুলিশ কনস্টেবল তার হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পাশে থাকা ট্রাফিক পুলিশ ও পথচারীরা ধর ধর বললে তিনি হেলমেটটি কেড়ে নিয়ে দৌড় দিয়ে কিছুদূর এগিয়ে একটি অটোরিকশায় উঠে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ে জব্দ করা অটোরিকশার সঙ্গে থাকা কাগজপত্র থেকে তার তথ্য বের করে পুলিশ। গভীর রাতে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুরো ঘটনা স্বীকার করেন।

পরে তার দেওয়া তথ্যে ওই বাড়ি থেকে ঘটনার সময় তার ব্যবহৃত গেঞ্জি, প্যান্ট ও পুলিশের ছিনতাই করা হেলমেটটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া রেলওয়ে অফিসার্স মেসের সামনের ড্রেন হতে আঘাতের কাজে ব্যবহৃত রডটি উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে দুপুরের মধ্যেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে, হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ কনস্টেবল জয় কুমারের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তিনি রাজশাহী পুলিশ লাইনে সংযুক্ত রয়েছেন।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর