রাজশাহীতে অনবরত বৃষ্টি, বিদ্যুৎহীন অনেক এলাকা

রাজশাহী

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে রাজশাহীতে চলছে টানা বর্ষণ। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি কখনো বা মুষলধারে, থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে শহর  ও এর আশপাশের এলাকায়। সঙ্গে বয়ে চলেছে দমকা হাওয়া। এরই মধ্যে শহরের প্রায় সব এলাকাই বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয় শুক্রবার (৩ মে) দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে। এর আগে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে এক পশলা বৃষ্টি হয়। এতে প্রায় দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজশাহীতে চলমান দাবদাহ কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়।

তবে বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় দেখা দিয়েছে নতুন দুর্ভোগ। বেশ কিছু এলাকার রোড লাইটও রয়েছে বন্ধ। ফলে সেসব এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে। এরই ওপর ভুক্তভোগীরা বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন করেও কাউকে পাচ্ছেন না।

ও প্রান্তে থাকা ফোনটির রিসিভার তুলে রাখা হয়েছে। ফলে এ প্রান্ত থেকে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ কেন্দ্রের ফোনটি সব সময় ব্যস্তই পাচ্ছেন। এ নিয়ে মহানগরীর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রাজশাহীর ওপর দিয়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ অতিক্রম করার সময় বড় দুর্যোগ হলে কী অবস্থা দাঁড়াবে তা নিয়ে এখনই নানান শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীর শিরোইল নিউ কলোনি, আসাম কলোনি, ছোট বনগ্রাম, শালবাগান কাদিরগঞ্জ, কুমারপাড়া, আলুপট্টি, তালাইমারি, বিনোদপুর, কাটাখালি, নিউ মার্কেট, সুলতানাবাদ, নওদাপাড়া, হড়গ্রাম ও সাগরপাড়াসহ নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো লি.) এর পাঁচটি ডিভিশনের প্রায় এলাকাতেই গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই শহরজুড়ে এতো বিদ্যুৎ গোলযোগ কেন সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবিলায় এরই মধ্যে রাজশাহীতে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সব সরকারি ও আধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য দু’টি আলাদা কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী। শেষ পর্যন্ত এর গতিপথ ঠিক থাকলে ঘূর্ণিঝড়টি আগামীকাল শনিবার বেলা ১১-১২টার মধ্যে উপকূল অঞ্চলে আঘাত হানার কথা রয়েছে। পরে সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল ও ঝিনাইদহ হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। এরপর রাজশাহী ও রংপুর হয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করার কথা রয়েছে। এসময় ঝড়ের গতিবেগ হবে ১০০-১২০ কিলোমিটার।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাজীব খান বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টা ৫ মিনিট থেকে রাজশাহীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মাঝে মধ্যে বয়ে যাচ্ছে দমকা হাওয়া। ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে রাজশাহী শহর ও এর আশপাশের এলাকায় এই বর্ষণ চলছে। থেমে থেমে তা অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টা ৫ মিনিট থেকে দিনগত রাত ২টা পর্যন্ত রাজশাহীতে ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাজশাহী আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ২৪