রাজশাহীতে অনলাইনেই মিলছে ইফতার প্যাকেজ

রাজশাহী

আজ বুধবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা রমজান। কিন্তু বাইরে বের হলে তা বোঝার উপায় নেই।

জনবহুল সড়কগুলো প্রায় জনশূন্য। এক নিস্তব্ধতা যেন গিলে খেতে চাইছে গোটা নগর।

সকাল গড়িয়ে দুপুর হতেই সড়কে ইফতারের সেই পসরা সাজানো নেই। নেই কোনো মানুষের হাঁকডাক! মরণঘাতি করোনাভাইরাস যেন মানুষের জীবনধারাই পাল্টে দিয়েছে।

যুগের পর যুগ থেকে চলে আসা অনেক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, রীতি-রেওয়াজ ও সংস্কৃতিকে থামিয়ে দিয়েছে। তাই রমজানের সেই চীরচেনা রূপ আজ বিবর্ণ। এরপরও মানুষ তার জীবন-যাপন ও অভ্যেসে পরিবর্তন আনছেন। একই কারণে শেষ সম্বলটুকু নিয়ে নানানভাবে ঘুরে দাঁড়তে চাইছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

করোনা সংকটে কঠোর লকডাউনের মধ্যে এই বছর রাজশাহীর বেশিরভাগ মানুষই অনলাইনে রমজানের বাজার করেছেন।

তাদের অনেকে এখন অনলাইন প্লাটফর্মে ইফতার ও সেহরি খুঁজছেন। আর তাই ভোজনপ্রিয় এসব মানুষের জন্য নানান ধরনের মুখরোচক ইফতারের প্যাকেজ অফার করছেন হোমমেড কিচেন, ফার্স্টফুড ও নামিদামি রেস্তরাঁগুলো। যারা ইফতার ও সেহরির খোঁজে রাজশাহীর ফুডিজ গ্রুপগুলোতে ঢুঁ মারছেন, তারা ঘরে বসেই অনলাইনে এসব খাবার অর্ডার করতে পারছেন।

ফলে অনলাইন প্লাটফর্মে ইফতার বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশাও করা হচ্ছে। তবে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্মী ও পরিবহন সংকট। এর কারণে হোটেল-রেস্তরাঁগুলো তাদের খাদ্য পণ্য ডেলিভারি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অনলাইনে ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ‘ফুড এহলিক’ থেকে শান্ত আলী বাংলানিউজকে বলেন, গতকাল লকডাউন শুরুর আগেই পুলিশ রাজশাহী শহরের অধিকাংশ হোটেল-রেস্তরাঁ ও ফাস্টফুড শপ বন্ধ করে দেয়। এ কারণে তারা গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পর আর অর্ডার নিতে পারেননি।

তবে রমজান বিবেচনায় রাতেও খাবার সরবরাহের একটি নির্দেশনা চেয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এখনও তার জবাব পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন শান্ত।

এদিকে, রোজা উপলক্ষে রাজশাহীতে অন্তত অর্ধশত নতুন ফেসবুক পেজ চালু হয়েছে, যারা হোমমেড ইফতার হোম ডেলিভারি দিচ্ছেন। এখন রাস্তায় ইফতার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে না। তাই অনেকেই অনলাইনে এগুলো বিক্রি করছেন। অনেকেই এজন্য হোমমেড ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসছেন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপগুলোতে। একদিন আগে অর্ডার নিয়ে পরদিনও পণ্য ডেলিভারি দিচ্ছেন অনেকে।

আবার রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ থাকলেও হোম ডেলিভারির অর্ডার নিচ্ছে। পেজে ইফতার আইটেম ও তার দামের তালিকাও দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেউ চাইলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ বা হোম কিচেনে ফোন করে ইফতার অর্ডার করতে পারছেন। আবার কেউ চাইলে ‘ফুডপান্ডা’  ‘ফুড এহলিক’, ‘বিলি বই’, ‘ফুডশাহী’র মত হোম ডেলিভারি সার্ভিস দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেও ইফতার অর্ডার করতে পারছেন।

রাজশাহী মহানগরীর স্বনামধন্য রেস্তরাঁ ‘রহমানিয়া’ প্লাসের রেজওয়ান খান জানান, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে রহমানিয়া প্লাসের ইফতার আয়োজনে থাকছে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ইফতার প্যাকেজ। রহমানিয়া প্লাসে এ ইফতার পার্সেল  ও হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা আছে। খাবার অর্ডার মোতাবেক সরবরাহ করা হয়। রাজশাহী ফুডিজ পেজে তাদের ইফতার পণ্যের তালিকা দেওয়া আছে। যে কেউ অর্ডার করলেই স্বাস্থ্যকরভাবে নিরাপদ ইফতার হোম ডেলিভারি করা হবে।

এভাবে মাস্টার শেফ, চিলিস, মারিয়ামস কিচেন, বাংলা ক্যাটারিং, খাদক, অ্যামিগোজ, ফুড ক্যানভাস ও সুমাইয়াস কিচেনসহ রাজশাহী শহরের নামিদামি রেস্তরাঁ ও হোমমেড ফুড ডেলিভারি কিচেনগুলো তাদের মুখরোচক ও বাহারি রকমের ইফতার পণ্যের প্যাকেজ অফার করছেন ভোজনরসিক রোজাদারদের জন্য।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ