রাজশাহীতে আটকে রেখে ছাত্রী নির্যাতন

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ

রাজশাহীর নওদাপাড়ায় অবস্থিত জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ইসলামী ব্যাংক নার্সিং ইনস্ট্রিটিউটের অধ্যক্ষ মেজর ডালিম’র বিরুদ্ধে ছাত্রীদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসার জন্য একজন ছাত্রী হোস্টেলের বাহিরে যেতে চাইলে তাকে মারপিট করা হয়। এরপর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য রাতে ওই ছাত্রীকে অধ্যক্ষের চেম্বারে ডেকে নিয়ে গিয়েও নির্যাতন করা হয়েছে বলে সেখানকার ছাত্রীরা জানিয়েছেন। তবে ওই ছাত্রী তাকে ধাক্কা মারায় তাকে সামান্য চড়ধাপ্পড় মারা হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ মেজর ডালিম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আবাসিক ছাত্রীরা জানান, মাঝে মধ্যেই নারী অধ্যক্ষ মেজর ডালিম ছাত্রীদের মারপিট করেন। ছাত্রীদের অশালিন গালাগালিজ করেন। এছাড়াও ছাত্রীদের দিয়ে হোস্টেলের ব্লক, সিড়ি ও টয়লেট পরিস্কার করে নেয়। এসব পরিস্কার করতে না চাইলে অধ্যক্ষ ছাত্রীদের মারপিট করেন। ওই হোস্টেলে ১৮০ জন আবাসিক ছাত্রী থাকে বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ, বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসার জন্য এক ছাত্রী হোস্টেলের বাহিরে যেতে চায়। কিন্তু অধ্যক্ষ মেজর ডালিম তাকে হোস্টেল পরিস্কার করতে কাজে লাগার জন্য বলে। এতে ওই ছাত্রী রাজি না হওয়ায় তাকে মারতে মারতে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে তার রুম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তাকে অশালিন ভাষায় গালাগালিজ করাও হয় বলে ছাত্রীরা জানান। এ ঘটনার পর বিকেলে অধ্যক্ষ চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যার পরে ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নিজের চেম্বরে কয়েক ঘন্টা আটকে রাখে উপাধ্যক্ষ আসমা খাতুন। সেখানে তাকে ফের নির্যাতন করে তাকে মারাপিট করা হয়নি বলে সাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে শাহমুখদুম থানার ওসি অধ্যক্ষকে ফোন দেয়ার পর ওই ছাত্রীকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানান হোস্টেলের ছাত্রীরা।
হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা আরও জানান, সম্প্রতি হোস্টেলে শর্ট কামিজ পড়ায় এক ছাত্রীকে মারপিট করে তার শরীর থেকে শর্ট কামিজ ছিড়ে ফেলেন অধ্যক্ষ। এছাড়াও কোন ছাত্রী বরখা না পড়ে বাহিরে গেলে তাকে অশালিন ভাষায় গালাগালিজ করা হয়।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ মেজর ডালিম বলেন, ছুটি না দেয়ার কারণে ওই ছাত্রী আমাকে ধাক্কা মেরে জোর করে হোস্টেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। এসময় তাকে সামান্য চড়থাপ্পড় মারা হয়। আর সন্ধ্যার পর উপাধক্ষের কক্ষে নিয়ে গিয়ে তাকে ছুটি দরখাস্ত লিখতে বলা হয়েছিল। তাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি বলেন অধ্যক্ষ মেজর ডালিম।
ছাত্রীর শরীর থেকে শর্ট কাজিম ছিড়ে ফেলার ব্যাপারে অধ্যক্ষ মেজর ডালিম বলেন, ইসলামী ব্যাংক নার্সিং ইনস্ট্রিটিউট একটি ইসলামি প্রতিষ্ঠান। সেখানে ইসলামিক নিয়ম কানুন চলে। সে কারণে সেখানে বোরখা ছাড়া বাইরে যেতে এবং শর্ট কামিজ পড়া নিষেধ করা হয়েছে। ওই ছাত্রী এ নিষেধ না শোর কারণে তার শর্ট কামিজ ছিড়ে ফেলা হয়েছে। তবে তাকে মারপিট করা হয়নি বলে জানান অধ্যক্ষ মেজর ডালিম।

দৈনিক সানশাইন