রাজশাহীতে আদালত কাস্টডিতে অনায়াসেই সাক্ষাৎ, ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল

রাজশাহী

adlt

রাজশাহী আদালত চত্বরের হাজতখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এ হাজতখানা থেকে আসামীরা অনায়াসে পেয়ে যায় তাদের স্বজনদের দেয়ার জিনিস। শুধু তাই না আসামীরা মোবাইল ফোনের কথা বলতে পারে অনায়াসেই। আর স্বজনদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করতে পারে আসামীরা। পুলিশের চোখের সামনেই এসব ঘটে থাকলেও দেখাও দেখেনা কোর্ট পুলিশ। রাজশাহী আদালতের হাজতখানায় প্রতিদিনই ঘটছে এমন ঘটনা। এতে হাজতখানাসহ কারাগারের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া যায়, এসব আসামীদের সঙ্গে কথা বলতে, মোবাইল ফোনে কারো সঙ্গে কথা বলতে অথবা কোন কিছু দিতে সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশরা নিয়ে থাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ।

নিয়ম অনুযায়ী, আদালতে বন্দি থাকা হাজতিদের খাবার দেয়ার নিয়ম পরীক্ষা করে। স্বজনরা খাবার দিলে তা প্রথমে পুলিশ পরীক্ষা করবে এরপরে আসামীদের হাতে সে খাবার যাবে। তবে হাজতে থাকা আসামীরা অনায়াসেই স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া খাবার পুলিশের পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি পেয়ে থাকে। শুধু তাই না, অনায়াসেই হাজতিরা স্বজনদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে কথা বলে। আসামীদের স্বজনরা এই সুবিধা নিতে সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকা দিতে হয় বলে জানা যায়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় কোর্টের হাজতি খানার বারান্দা টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। কোর্ট এবং জেলাহাজতে না নেয়া পর্যন্ত টিন দিয়ে ঘিরে রাখা ওই বারান্দার হাজতিখানায় রাখা হয়। ফুটো করে রাখা ওই টিনের ভেতর দিয়ে স্বজনরা নির্বিঘ্নে সরাসরি কথা বলা, ফোনে কথা বলা এবং পরীক্ষা করা খাবার ছাড়ায় আসামীদের খাবার দিচ্ছে। সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের চোখের সামনে এসব প্রতিদিনই ঘটছে।

রাজশাহী কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক উদ্বেগের সাথে জানান, আসামীদের সাথে কথা বলার অধিকার স্বজনদের আছে তবে এভাবে ফুটো দিয়ে কথা বলার কোন নিয়ম নেই। স্বজনরা আসামীদের সাথে পুলিশের অনুমতি নিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে কথা বলতে পারে।

আসামিদেরকে ফুটো দিয়ে খাবার দেওয়ায় তিনি আরো উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তিনি জানান এই ভাবে খাবার দেয়া বেআইনী। কারন এইসব খাবার পরীক্ষা করা না। আসল আসামীকে বাঁচাতে এবং পুলিশের উপর দায় চাপাতে মুল আসামীরা বিষাক্ত খাবার খাওয়ে হাজতি আসামীকে মেরে ফেলতে পারে। ফোনে কথা বলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আসামীদের ফোনে কথা বলার অধিকার কোনভাবেই আইন সম্মত না। আসামী নিজে গডফদার হতেও পারে। হাজত থেকে বসে ফোনের মাধ্যমে বাইরে বিভিন্ন রকম বেআইনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার একটা আশক্সক্ষা থেকেই যাই। প্রায় এরকম ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম প্রকাশ হয়। পুলিশ টাকা পয়সা নিয়ে এসব বেআইনী কাজ করতে সহয়তা করে।

এ বিষয়ে রাজশাহী কোর্ট পরিদর্শক বজলুর রশিদ এর কাছে জানাতে চাইলে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোর্ট হাজতখানার সকল ফুটো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফুটো বন্ধ করে দেওয়ায় ফোনে কথা বলা, আসামীদের খাবার দেয়া সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.