রাজশাহীতে আন্দোলনের মুখে বন্ধহলো গাছ কাটা

রাজশাহী

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে একটি প্রশিক্ষণ একাডেমির জন্য ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে সংলগ্ন এলাকার সাড়ে পাঁচ শরও বেশি গাছ কাটতে শুরু করেছিল কারা কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে রাজশাহীবাসী আন্দোলন শুরু করলে গতকাল সোমবার বিকেলে গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

গতকাল সোমবার সকালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন সিপাইপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বড় বড় যেসব গাছে শামুকখোল পাখিরা বাসা বাঁধত, সেগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। কারাগারের পূর্ব পাশে রয়েছে কারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেই বিদ্যালয়ের সামনের গাছগুলো এরই মধ্যে কেটে সাবাড় করা হয়েছে। রেইনট্রি, মেহগনি, তেঁতুলসহ বেশ কিছু বড় বড় গাছ কেটে রাস্তার ওপরেই ফেলে রাখা হয়েছে। আরও গাছের গোড়ার মাটি সরানো হচ্ছে কাটার জন্য।

এরই মধ্যে আছে একটি শতবর্ষী গাছ। সেটিরও ডালপালা কাটা হয়েছে। তবে গোড়ায় এখনো কোপ দেওয়া হয়নি। গাছটির প্রাণ বাঁচাতেই ছুটে এসেছিলেন রাজশাহীবাসী। তাঁদের দাবি, এই গাছটির এখনো প্রাণ আছে। গাছটি বাঁচাতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষের গাছ কেটে ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে ‘গাছ ও পরিবেশের জন্য আমরা, পরিবেশ–বিধ্বংসী উন্নয়ন চাই না’ স্লোগান লেখা ব্যানার নিয়ে ওই গাছটির গোড়ায় মানববন্ধন করেন। গতকাল বিকেল সোয়া চারটা থেকে সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত চলা এ মানববন্ধনে অংশ নেন বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সহসভাপতি তারেক অণু, পর্যটক তানভীর অপু, পাখি ও পরিবেশপ্রেমী তোজাম্মেল হক, পরিবেশপ্রেমী রেজাউল করিম প্রমুখ।

স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমার বুদ্ধি পড়ার পর থেকেই গাছগুলোকে এত বড় দেখছি। শীতকালে গাছের ডালে কোনো পাতা থাকে না। ওপরের দিকে তাকালে চোখে পড়ে শুধু পাখি আর পাখি। আমরা এলাকাটার নাম দিয়েছি “পাখি কলোনি”। পাখির বাচ্চা গাছ থেকে পড়ে গেলে আমরা তুলে দিই। কাউকে পাখি ধরতে দিই না। আর সেই গাছগুলো এখন কেটে ফেলাটা মেনে নেওয়া কঠিন।’

স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক মিঠন আলী সরদার বলেন, প্রাচীরটা একটু এদিক–ওদিক করলেই বহু গাছ বাঁচানো যায়। ঠিকাদার মাত্র ১৯ লাখ টাকায় ৫৬১টি গাছ কিনে নিয়েছেন।

তবে গাছ কাটার বিষয়ে ঠিকাদার সুমন আলী বলেন, ‘গাছ নিলামে কিনেছি। কোনো কথা বলার থাকলে জেলখানায় গিয়ে বলেন। এখানে বিরক্ত করবেন না।’

এদিকে মানববন্ধন শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পরিবেশবাদীরা তাঁদের দাবি নিয়ে ছুটে যান রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে। মেয়র তাদের বলেন, এটা জেলা প্রশাসনের বিষয়। পরে তাঁরা যান রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এস এম আবদুল কাদেরের কাছে।

জেলা প্রশাসন বলেন, মানববন্ধন শেষে পরিবেশবাদীরা তাঁর কাছে গিয়েছিল। তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে গাছ কাটা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। তিনি ফোনও ধরেননি।

জেলার হাবিবুর রহমান জানান, এখানে বাংলাদেশের একমাত্র কারা প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নির্মাণ করা হচ্ছে। তাই সব আইন মেনেই ৫৬১টি গাছ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এলাকায় একটা বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। এর গুরুত্ব অনেক বেশি। বড় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই গাছগুলো কাটা হচ্ছিল।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ প্রথম আলো