রাজশাহীতে ঈদ প্রস্তুতি সম্পন্ন, কঠোর নিরাপত্তা আরএমপির

রাজশাহী

শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় রাজশাহীসহ দেশজুড়ে পালিত হবে দিনটি। ঈদ উদযাপনের সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন।

এছাড়া নগরীর নিরাপত্তায় নেয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা, নগরীজুড়ে ব্যানার ও পতাকা দিয়ে সজ্জিত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে, সকাল ৮টার দিকে নগরীর শাহ মখদুম (র.) কেন্দ্রীয় ঈদগায় নগরীর প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবার কথা। সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যেই নগরীর বাকি ঈদগাহগুলোয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এসব ঈদ জামাতে দেশ ও জাতির অগ্রগতি ও কল্যাণ এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সংহতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে। পরে নগরীর ২১০ পয়েন্টে পশু কোরবানি করবেন মুসল্লিরা।

ঈদ উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাতে সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশু পল্লী, সরকারি শিশু সদন, ছোটমনি নিবাস, সেফ হোম এবং অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহে ঈদ উপলক্ষে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। রাজশাহী গণযোগাযোগ অধিদফতর মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাষ্ট্রীয় নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করবে।

অন্যদিকে, ঈদের ছুটিতে নগরজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। নগরীর প্রধান ঈদ জামাত ছাড়াও বড় ঈদ জামাতগুলো ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। অন্য ঈদগাহও থাকবে নিরাপত্তায়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থায় থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঈদের ছুটিতে বাসা-বাড়ি ও বিপণী বিতানের নিরাপত্তায় কিছু পরামর্শও দেয়া হয়েছে আরএমপির পক্ষ থেকে। এরই মধ্যে আরএমপির প্রতিটি জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) ও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে থানা, টহল ও গোয়েন্দা পুলিশ। প্রতিটি জোনের এসিরা এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয় করবেন।

ছুটিতে নগরীর প্রত্যেক এলাকায় সংশ্লিষ্ট বিট পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ পালা করে টহল দেবে। তাদের সহযোগিতা করবে টহল ও সাদা পোশাকের পুলিশ।

বাসা-বড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন বিপণীবিতানেও এবার থাকবে পুলিশের কড়া নজর। এক্ষেত্রে বিপণী বিতানগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে সমন্বয় করে সেসব জায়গায় নিরাপত্তা নিশ্চত করা হবে।

ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে রাতের বেলায় বাড়ানো হবে পুলিশের টহল। ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের নিরাপত্তায় বিভিন্ন বাস ও রেল স্টেশনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা ও নওদাপাড়াসহ তিনটি পয়েন্টে চেকপোস্ট থাকবে। পাশপাশি নগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিভিন্ন পয়েন্ট নীবিড় নজরদারির আওতায় আনা হবে। নগরীর বিনোদন কেন্দ্রঘিরেও থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা।

তিনি আরও বলেন, বরাবরের মত নগরীতে বিস্ফোরক ও আতশবাজি বহন এবং ফাটানোর উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নগরীর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ঈদের আগের দিন থেকে পরদিন পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। গত ২৭ আগস্ট এ নিয়ে এক আদেশ জারি করেছে আরএমপি। সেই সঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নগরবাসীর সহায়তা চান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

খবরঃ জাগোনিউজ২৪