রাজশাহীতে এই রাস্তা না গোয়াল ঘর?

রাজশাহী

রাজশাহী নগরীর মিশন হাসপাতালের সামনে যে রাস্তাটি চলে গেছে মন্দিরের পাশ দিয়ে সেটি গিয়ে ঠেকেছে চন্ডিপুর ঘোষ পাড়ায়। ঘোষপাড়ার রাস্তা বলতে যা বোঝায় সেটি আসলে ব্যবহৃত হচ্ছে গরুর রাখার জায়গা হিসেবে।

মুসলিম একাডেমী স্কুল থেকে চন্ডিপুর মোড় পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা বেহাল। এই রাস্তার মাঝ খানে একটি বহুতল ভবন তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে এই ভবনের। ভবনের পেছনের দিকের রাস্তার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। ভবন নির্মানের সময় রাস্তার পাড় ভেঙ্গে যায় বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এখানে আবর্জনা ফেলে গর্ত ভরাট করে। সেখানেই এখন রাখা হয় গাই গরু গুলো। নিজ এলাকার একমাত্র রাস্তার দুর্দশার কথা এভাবেই জানালেন দুধ ব্যবসায়ী বাবলু ঘোষ। তার কথায় এই এলাকায় ৬০টি ঘোষ পরিবার বাস করে। প্রায় ৩০০ মানুষ বাস করে এখানে। এর পাশাপশি রয়েছে প্রায় ১০০ গরু। অধিকাংশই দুধেল গরু। পাড়ার প্রায় সবার রয়েছে দুধের ব্যবসা। এ তল্লাটের পুরো দুধের সাপ্লাই যায় এখান থেকে। আসেপাশের প্রচুর মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। তারা সব সময় সমস্যায় পড়ে এ দিক দিয়ে যাতায়াতে। তবে বেহাল এই রাস্তার কিছুটা স্বস্থি নিয়ে এসেছে রাস্তার পাশের ড্রেনটি। স্লাব বসানো ড্রেনের ওপর দিয়েই মানুষ হেঁটে যাতায়াত করে।
ভাটাপাড়া এলাকা থেকে বিকেলে দুধ কিনতে এসেছেন রহিমা বেগম। জানালেন, এই রাস্তা দিয়ে হাটা যায়না। খাঁটি দুধ কিনতেই প্রতিদিন বিকেলে অসতে হয়। এটা মেরামতের কোনো উদ্যোগ চখে পড়েনি জানালেন তিনি।

চন্ডিপুর মোড়ের কাছে রাস্তায় বসে দুধ বিক্রি করেন শ্রীরাম ঘোষ। তিনি জানালেন, এরশাদের শাসনামলে এই রাস্তা তৈরি করা হয়। এর পরে রাস্তার কোনো উন্নয়ন করা হয় নি। প্রতিবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে কাউনিøর এবং মেয়র প্রার্থীরা নানা আশ্বাস দিয়েছেন। কেউ কথা রাখেনি। তবে রাস্তা মেরামত করা হলে রাস্তায় গরু রাখা যাবে না। তখন গরু রাখার জন্য অন্য জায়গা দেখতে হবে। সে সমস্যা হলেও রাস্তাটা ঠিক করা হোক। মানুষের দুর্ভোগ কমে আসুক এটাই চান এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসএম মাহাবুবুল হক পাভেল বলেন, তার উন্নয়ন কর্মকান্ডের তালিকার শীর্ষে রয়েছে এই রাস্তাটি। তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন রাস্তার জন্য। সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন খাতে টাকা নাই। যার কারনে কবে নাগাদ এর কাজ শুরু করা যাবে বলা যাচ্ছে না। তবে আশা করা যায় কোরবানী ঈদের পরে কাজ শুরু করা যাবে। তবে সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

5 thoughts on “রাজশাহীতে এই রাস্তা না গোয়াল ঘর?

  1. সমাধান দরকার। বৃষ্টি হলে বাজে ধরনের বিপদে পড়ে অত্র এলাকার মানুষ। পরিচ্ছন্ন রাজশাহীর জন্য এটা একটি হুমকী। জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

Comments are closed.