রাজশাহীতে এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি অাদায়

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী

রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে আদায় করা হচ্ছে কোচিং ফি। কিছু স্কুলে যারা টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে তাদের কাছে বিষয় প্রতি নির্দিষ্ট হারে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১৭৫০ টাকা এবং মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১৬৫০ টাকা ফরম পূরণ ফি নেয়ার কথা। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২/৪টি বিদ্যালয় ব্যতীত অধিকাংশ বিদ্যালয় এসএসসি ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে। ওই সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ স্বয়ং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিরা এই অতিরিক্ত ফি আদায়ের সঙ্গে জড়িত। ফলে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেও কোনো ফল হচ্ছে না।

ভুক্তভোগী অভিভাবকরা বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে যোগসাজশে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ ফি বাবদ সর্বনিম্ন দুই হাজার পাঁচ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। তবে ওই ফি আদায় সংক্রান্ত কোনো রশিদ দেয়া হচ্ছে না। এমনকি অভিভাবকরা অতিরিক্ত ফি আদায়ের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকদের প্রশ্ন করেও কোনো সদুত্তর পাচ্ছে না। শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত অতিরিক্ত ফরম পূরণ ফি নেয়া শিক্ষা নীতিমালার পরিপন্থি। কাজেই সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ভুক্তভোগী অভিভাবকরা বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতিরা অনেক শক্তিশালী। কাজেই প্রশাসনের পক্ষে কোনো বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নগরীর বসুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফির সঙ্গে কোচিং ফি এবং চার মাসের অতিরিক্ত বেতন আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরীক্ষার ফি বাবদ নেয়া হচ্ছে ১৭৫০ টাকা। এর সঙ্গে যারা টেস্টে কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তাদের কাছে প্রতি বিষয়ে আদায় করা হচ্ছে এক হাজার টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, তার কাছে সাড়ে সাত হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। তিনি টেস্টে গনিত, কৃষি বিজ্ঞান এবং ভূগোল বিষয়ে অকৃতকার্য হেেয়ছেন। অপর একজন জানালেন তার কাছে আদায় করা হয়েছে ৩৪০০ টাকা। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মাহামুদুল্লাহ কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমন অভিযোগ রয়েছে নগরীর কয়েকটি স্কুলের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে রয়েছে সৃষ্টি শিক্ষা স্কুল। তারা বাধ্যতামূলকভাবে কোচিং ফি আদায় করছে।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর তরুণ কুমার বলেন, ফর্ম পুরনের বিষয়ে সুস্পস্ট নির্দেশনা রয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন আইন কানুনে চলে। তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের প্রমান পাওয়া যাচ্ছেনা। যারা অভিযোগ করছেন তাদেরকে সুনির্দিষ্ট প্রমান সহ অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। তবে শিক্ষা আইন প্রনীত হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন