রাজশাহীতে ওল চাষে ঝুঁকছে কৃষক

রাজশাহী

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমেছে। সে কারণে রাজশাহী অঞ্চলের চাষবাদেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ধান চাষে উৎপাদন খরচ না পাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ঝুঁকছে অন্য আবাদে। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা এখন শুরু করেছে পাহাড়ি ও মাদ্রাজি জাতের ওল কচু চাষ। গত বছরে রাজশাহী জেলায় ৪২ হেক্টর জমিতে পাহাড়ি ওল চাষ হয়েছিল। এ মৌসুমে তার চেয়ে আরো ২৫ হেক্টর বেশি জমিতে বেশি ওল চাষ করা হয়েছে।

কৃষকরা জানান, ধানসহ অন্য ফসল চাষে উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ কম হয়। বাজার দর বর্তমান যে অবস্থা তাতে লাভের পরিমাণ মোটেও ভালো না। সে কারণে তারা ধানের পরিবর্তে সবজি বা অন্য ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

ওল চাষিরা জানান, ওল চাষে ফলন ভালো। পানি সেচ দেয়ার কোনো খরচ নাই। বাজারে ওল কচুর দামও ভালো। কৃষকের হাত ভরে টাকা আসে। মাদ্রাজি,পাহাড়ি নামে উচ্চ ফলনশীল ওল চাষ এবার মাঠে বেশি হয়েছে। রাজশাহীর তানোর উপজেলার প্রকাশনগর, টকটকিয়া, দুবইল গ্রামের ৮ থেকে ১০ জন কৃষক বাণিজিকভাবে ওল চাষ শুরু করেছেন। চলতি মৌসুমে মাদ্রাজি জাতের ওল চাষ বেশি করছেন তারা।

প্রকাশনগর গ্রামের ওল চাষি মুনতাজ আলী জানান, আমন ধানের দাম না পেয়ে লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই ধানের পরিবর্তে বাড়ির পাশে ৪০ শতক জমিতে ওল চাষ করেছেন। প্রতিটির ওজন দুই থেকে আড়াই কেজি করে হয়েছে। এবার উৎপাদিত ওলের ভালো দাম পাবেন বলে তিনি আশা করেন।

তিনি জানান, প্রতি বিঘা ওল চাষ করতে খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। খরচের বেশির ভাগ টাকা ব্যয় হয় চারা কেনার পেছনে। এছাড়া উৎপাদন খরচ খুব একটা বেশি নয়। প্রতি বিঘা জমিতে ওল উৎপাদন হয় ৭৫ থেকে ৮০ মণ। প্রতি মণ ওল এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। সেই হিসেবে প্রতি বিঘায় ওল বিক্রি করে আয় হয় ৭৫ হাজার টাকা থেকে ৯৬ হাজার টাকা।

মোহনপুর উপজেলার ধুরইর গ্রামের মেরাজ ও শরিফুল নামের দুই কৃষক জানান, উপজেলায় ধান চাষের চেয়ে বেগুন, কাঁচা মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজি বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে। সবজির মধ্যে কয়েক বছরে কচুর চাষ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে এলাকায় কয়েক হেক্টর জমিতে পাহাড়ি জাতের ওল চাষ হয়েছে। ওল ওজন বেশি হওয়ায় একটি ওল বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত। তাই ওল চাষে এ উপজেলায় দিন দিন কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে।

তানোর উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমশের আলী জানান, এ অঞ্চলে দেশি জাতের ওলের চেয়ে মাদ্রাজি ও পাহাড়ি জাতের ওল চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশি ওল খেলে মুখ ধরে, আর মাদ্রাজী ওল ওজনে বড় হওয়াই খেতে ভালো। এর পাতা-ডাটাও খাওয়া যায়। অল্প পরিশ্রমে বেশি লাভ। বেশি ফলন হয়।

বাজারে আলুর চেয়ে এখন ওল কয়েকগুন দামে বিক্রি হচ্ছে। তাই গত কয়েক বছর ধরে কচু চাষের পাশাপাশি ওল চাষে বেশ আগ্রহ বাড়ছে রাজশাহী অঞ্চলে কৃষকদের।

খবরঃ বাংলামেইল২৪

2 thoughts on “রাজশাহীতে ওল চাষে ঝুঁকছে কৃষক

Comments are closed.