রাজশাহীতে ওয়ানওয়েতেও মেলেনি পরিত্রাণ

রাজশাহী

রাজশাহী নগরীর যানজট নিরসনে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। এরইমধ্যে নগরীর সাহেব বাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিকে ওয়ানওয়ে করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ যানজট নিরসনের এই পদক্ষেপটি কাজে আসছে না। তাদের অভিযোগ এখনো মূল সমস্যাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দাবি বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে এই দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে পরিত্রাণে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সূত্রমতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নগরীর সাহেব বাজার জামাল সুপার মার্কেট থেকে শুরু করে রাজশাহী কলেজ গেট পর্যন্ত সড়ককে ওয়ানওয়ে করা হয়েছে। এই সড়কের যেকোন এক দিক দিয়ে যানবাহন নিয়ে প্রবেশ করলে ইউটার্ন নেয়া যবে না। আওয়ামী লীগ অফিস বা রাজশাহী কলেজের গেট পর্যন্ত যাবার পর টার্ন নেয়া যাবে। আর এজন্য রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উদ্যোগে সড়কের মাঝে থাকা পূর্বের ইউ টার্নগুলো বন্ধ করতে লোহার বার বসিয়ে তাতে সবুজ-হলুদ রং করে দেয়া হয়েছে। এর উদ্যোক্তা রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) ও আরএমপি’র। আর এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিকে যানজট মুক্ত করা। রাজশাহী সিটি করপোশেনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ২৮ ফেব্রুয়ারি আরএমপির ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধন কালে নগরীর যানজট নিরসনে এই সড়কসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে ওয়ানওয়ে করার পরিকল্পনার কথা জানান। আর তার এই পরিকল্পনার কথা শুনে দুর্ভোগে থাকা নগরবাসী কিছুটা হলেও আশ^স্থ হন।

তবে নগরীর বুকে ছুটে চলা প্রায় ৩০ হাজারের মতো ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার (বেসরকারী হিসেবে) প্রতি নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করে, যানজট নিরসনের জন্য সড়ককে শুধুমাত্র ওয়ানওয়ে করার পরেও অনেকে মানছেন না দিক নির্দেশনা। সরেজমিনে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে মনিচত্ত্বর পর্যন্ত সড়ক ঘুরে দেখা যায়, এই সড়কটিতে ইউটার্ন নেয়া না গেলেও এখনো প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকছে। দিনমান প্রকাশ্যেই ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা এই সড়কটির দুই ধার ঘিরে দাড়িয়ে যাত্রী তুলছে বা নামাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সড়ক জুড়ে অটোর এভাবে দাড়িয়ে থাকাই এখন সড়কটিতে যানজট সৃষ্টির প্রধান কারণ। সেই সাথে রয়েছে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কে অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ব। তবে প্রশাসনকে এবিষয়ে কার্যত কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে নগরীর সড়কগুলোর ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে যানবাহনের সংখ্যা। যার অধিকাংশই ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। আর এর চালকদের প্রাকশ্য অনিয়মের কারণে নগরীর সড়কে দিনমান লেগে থাকছে যানজট। সেই সাথে রয়েছে ফুটপাত ও রাস্তা দখলের দৌরাত্ম্য। আর তাই যানজট নিরসনে প্রশাসনের কোন পরিকল্পনাই কাজে আসছে না।

কলেজিয়ের স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ইউটার্ন বন্ধ করেছে, এটি ভালো উদ্যোগ। তবে যানজটের মূল যে কারণ তাই তো এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়নি। অটোগুলোর চালককে সড়কে চলাচলের প্রয়োজনীয় আইন জানাতে হবে ও তা পালনের মনসিকতা সৃষ্টিতে উদ্যোগ নিতে হবে। তাছাড়া বেশকিছুদিন থেকে অটোগুলোকে দুটি রংয়ে বিভক্ত করে দুই দিনে চলাচলের কথা শোনা গেলেও, এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। যানজট নিরসনে এই মুহুর্তে প্রয়োজন অটোরিকশা কোন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ আইন ও তার বাস্তবায়ন।

রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, সড়কে যানবাহন ধরা বা যানজট সমধানের বিষয়টি ট্রফিক বিভাগের নিয়ন্ত্রণে। তারপরো আমরা বলবো যানজট নিরসনে রাসিকের সাথে সমন্বয় করে আরএমপির ট্রাফিক বিভাগ যে উদ্যোগটা নিয়েছে তা সত্যিই প্রসংশনীয়। এতে করে সাহেব বাজার এলাকায় কিছুটা জনদুর্ভোগ কমেছে। রাসিক ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে আগামীতে নগরীর আরো কিছু সড়ক ওয়ান ওয়ে করা হবে। এছাড়া কিছু সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে পথচারীদের জন্য শুধুমাত্র পায়ে হেটে চলাচলের জন্য ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরো জানান, নগরীর সড়কে এখন ধারণ ক্ষমতার চাইতে বেশি যানবাহন চলাচল করছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য নতুন ও প্রশস্থ সড়ক নির্মাণে রাসিক ইতিমধ্যেই কাজ হাতে নিয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, নগরীর সাহেব বাজর জিরো পয়েন্ট থেকে মনি চত্ত্বর পর্যন্ত সড়ক ওয়ান ওয়ে করে যানজট সংশ্লিষ্ট সমস্যা কিছুটা লাঘব করা গেছে। এই সড়কে এখনো কী কারণে যানজট লেগে থাকছে তার কারণ নির্ণয় করে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ ডেইলি সানশাইন