রাজশাহীতে কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা

রাজশাহী

রাজশাহী বিভাগে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি দিনে দিনে আরো খারাপ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে রোগটি। সম্প্রতি যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অনেকেই জানাতে পারছেন না আক্রান্তের উৎস। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মানুষের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজে সতর্ক থাকাই একমাত্র সুরক্ষা ব্যবস্থা।

রাজশাহীতে আবু সাঈদ রামে একজন সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি এসএ টেলিভিশনের রাজশাহী ব্যুরো অফিসের ক্যামেরাপার্সন। সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ আসে। আবু সাঈদ রাজশাহীতে প্রথম সাংবাদিক করোনা আক্রান্ত হলেন।

আবু সাঈদ জানান, বর্তমানে তিনি রাজশাহী পবা উপজেলার কিসমত কুখণ্ডি গ্রামের নিজের বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। কয়েকদিন ধরে তার জ্বর ছিল। কিন্তু এখন জ্বর নেই। তবে শারীরিক এবং মানসিকভাবে তিনি দুর্বল। আবু সাঈদ নিজের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এসএ টিভির রাজশাহী ব্যুরো অফিসের ইনচার্জ জিয়াউল গনি সেলিম জানান, সম্প্রতি পেশাগত কাজের জন্য তিনি এবং আবু সাঈদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে গিয়েছিলেন। এর বাইরে তারা রাজশাহী ছেড়ে কোথাও যাননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সতর্কতার সাথেই তারা কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তারপরেও আবু সাঈদ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

সাংবাদিক আবু সাঈদ ছাড়াও সম্প্রতি রাজশাহীতে যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের অনেকেই বলতে পারছেন না আক্রান্তের উৎস। এ থেকেই বোঝা যায় করোনা কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

এদিকে রাজশাহী অঞ্চলে দিনে দিনে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগের আট জেলার মধ্যে পাঁচ জেলায় মোট ১২৯ জন করোনা রোগি শনাক্ত হয়েছে। একই সময় মারা গেছেন দুইজন। এছাড়াও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন আরও ১০ জন করোনা রোগি। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডা. গোপেন্দ্র আরও জানান, রাজশাহী বিভাগে এ পর্যন্ত এক হাজার ৭৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ মধ্যে সর্বোচ্চ বগুড়ায় ৮৭৪ জন আক্রান্ত। এছাড়াও রাজশাহীতে ৮৬ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৭ জন, নওগাঁয় ১৫৯ জন, নাটোরে ৬৮ জন, জয়পুরহাটে ২১৪ জন, সিরাজগঞ্জে ১৪১ জন ও পাবনায় ১৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে রাজশাহীর বাজারগুলোতে কেউ মানছে না স্বাস্থবিধি। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে দেখা যাচ্ছে না কাউকেই। অনেকেই মাস্ক ছাড়াই চলাফেরা করছেন। গণপরিবহনগুলোতেও বসানো হচ্ছে গাদাগাদি করে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরো বেশি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডা. গোপেন্দ্র নাথ বলেন, রাজশাহী বিভাগে তিনটি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে দুইটি ও বগুড়ায় একটি। এছাড়াও অতিরিক্ত নমুনাগুলো ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা বাড়ছে। তার সঙ্গে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও।

তিনি বলেন, এ বিভাগে করোনা পরিস্থিতি অবনতির দিকে আছে। মানুষের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। করোনা মোকাবিলায় মানুষকে সচেতন হতে হবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। প্রয়োজনে বের হলে মাস্ক পড়তে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ দৈনিক সানশাইন