রাজশাহীতে কালবৈশাখীতে আমের ব্যাপক ক্ষতি, বিদ্যুৎ গোলযোগ

রাজশাহী

রাজশাহীতে মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী আঘাত হেনেছে। ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ৯০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার। ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে মহানগর ও আশপাশের এলাকা।

রোববার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিট থেকে ৭টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কালবৈশাখীর স্থায়িত্ব ছিল বলে জানিয়েছে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস। তবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিট থেকে ঝড় শুরু হয়। এরপরই কালবৈশাখীর দাপট।

আর ঝড় শুরুর পর থেকেই পুরো মহানগর এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখীতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

রাজশাহী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ বিভাগের প্রকৌশলী শামীম হোসেন জানান, রোববার সন্ধ্যার কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক পোলের ওপর গাছ ও ডালপালা পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তা অপসারণ করতে সময় লাগবে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিট থেকে ৭টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কালবৈশাখীর স্থায়িত্ব ছিল। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ৯০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার। সাধারণত ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ৩০-৩৫ কিলোমিটার হলেই কালবৈশাখী ধরা হয়। সন্ধ্যায় কালবৈশাখীর গতি-প্রকৃতি ভয়াবহ ছিলো।

পাঁচ মিনিট পর কালবৈশাখীর দাপট কমে গেলেও ঝড়টি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে মহানগরের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এ সময় বজ্র ও বৃষ্টিপাত হয়।

সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত রাজশাহীতে প্রায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টি এখনও চলছে। তবে মহানগরে শিলাবৃষ্টি হয়নি।

এদিকে, বিদ্যুৎহীন নগরে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রাতে ঝড়ো হাওয়ায় নগরের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ছোট-বড় শিশু গাছ উপড়ে গেছে। ভদ্রা স্মৃতি অম্লান চত্বরের পাশে একটি বিলবোর্ড খুলে রাস্তার ওপর পড়ে যায়।

কালবৈশাখীর আঘাতে রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে গুটি আম ঝড়ে পড়েছে। কালবৈশাখীতে আমের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা না গেলেও  ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রায়পুর এলাকার আম ব্যবসায়ী শামসুল হক জানান, রোববারের কালবৈশাখীর আঘাতে আম ঝরে পড়ায় চরম লোকসান গুনতে হবে তাদের। গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছিল এবং যে পরিমাণ আম ধরেছিলো তাতে অন্য বছরের লোকসান অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু আজকের কালবৈশাখীতে তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

খবরঃ বাংলানিউজ