রাজশাহীতে কি অপরাধে জাহাঙ্গীর জেলে জানেনা পরিবার

রাজশাহী

রাত তখন দুটা। বাড়িতে পুলিশ আসে। তারা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে যেতে চায়। সবাই জানতে চায় তার কি অপরাধ। পুলিশ জানায় কোনো সমস্যা নেই। সে জামায়াতের ক্যাডার। একারনে তাকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এভাবেই বললেন জাহাঙ্গীরের মা রাজিয়া বেগম।

গত সোমবার রাতে বাড়ি থেকে জাহাঙ্গীরকে নিয়ে যায় বোয়ালিয়া থানা পুলিশ। তাকে একটি নাশকতা মামলায় চালান দেয়া হয়। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে আসাম কলোনী এলাকায়। সবাই এক বাক্যে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর খেটে খাওয়া মানুষ। তাকে এবং তার পরিবারকে সবাই ভালোভাবে চেনে। তার বিরুদ্ধে এধরনের অভিযোগ অবিশ্বাস্য। এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুদ জানালেন, সে দিনে রং মিস্ত্রির কাজ করে। বিকেলে বাড়ির সামনের ছোট দোকানে কাপড় চোপড় ইস্ত্রিরর কাজ করেন। তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ নেই।

পাশের মুদি ব্যবসায়ী বন্দে আলী বলেন, ছোট থকে দেখছি। তারা খুব নিরিহ প্রকৃতির। বাড়িতে তার দুই মানসিক প্রতিবন্ধি বোন রয়েছে। তার দুই ছেলে। স্ত্রী গর্ভবতী। এ অবস্থায় পুরো পরিবার দিশেহারা। তাদেরকে জানানো হয় জাহাঙ্গীর ছিল জামায়াত ক্যাডার। পরে বলা হয় সে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালানোর মামলা রয়েছে।

প্রতিবেশি দাদি পান স্টোরের মালিক রোকেয়া জানালেন, খেটে খাওয়া মানুষ জাহাঙ্গীর। বাড়িতে পোয়াতি বৌ আরো আছে দুই ছেলে। মাসহ দুই অসুস্থ বোন নাজমা এবং বেবি তার উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। মা রাজিয়া বেগম জানালেন, ধরে নেয়ার পর মামলা সাজানো হচ্ছে। আগে বলা হলো জামায়াত ক্যডার এখন বলা হচ্ছে পুলিশের গাড়িতে হামলা। সব কিছুই গোলমেলে মনে হচ্ছে। ভাই আলমগীর বলেন তিনি বার্নিস মিস্তিরির কাজ করেন। তার ভাই রং মিস্তিরির কাজ করে। তারা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তার পরেও কেনো তাদের মামলায় জড়ানো হলো তরা বুঝতে পারছেন না। আগামী রোববার কোর্টে যেতে বলা হয়েছে। দেখা যাক কি হয়। এলাকার লোকজন জাহাঙ্গীরের জন্য সবায় মিলে থানায় যেতে চেয়েছিল। তিনি নিষেধ করায় তারা যায়নি। এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার তদন্ত ওসি সলিম বাদশা জানান, এ বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি ছুটিতে আছেন। ওসি শাহাদত হোসেনকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন