রাজশাহীতে কুড়ি দিনের ঝুড়ি ব্যবসা…

রাজশাহী

গুটি শেষ, গোপাল শেষ, ক্ষীরসাপাতও শেষ। এখন আছে ল্যাংড়া আর ফজলি। সব মিলিয়ে আরও ২০ দিনের জমজমাট ব্যবসা। তারপর আবার অন্য জায়গা, ভিন্ন কাজ।

একে একে রাজশাহীর সেরা জাতের আমগুলোর নাম বলে এভাবেই তার বেচা-বিক্রির সময়কাল জানাচ্ছিলেন মহানগরীর শালবাগান এলাকার মৌসুমি ঝুড়ি ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন শেখ।

রাজশাহী শহরের মধ্যে বড় বড় আমের আড়তগুলো সেখানেই। তাই সেই আড়তগুলোকে কেন্দ্র করে খড়, সুতলি, ঝুড়িসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন পণ্যের দোকানও বসেছে শালবাগান বাজারে।

একজন সাধারণ ক্রেতা আম কেনার পর তার জুতসই ও নিরাপদ পরিবহনের জন্য চাওয়া মাত্রই ঝুড়িসহ সবকিছুই হাজির হয়ে যাচ্ছে। সামান্য খরচে মুহূর্তের মধ্যে মিলছে ১৫ মিনিটের মজুরও।

আম কেনার পর, তা ঠোঙায় করে ঝুড়িওয়ালার কাছে নিয়ে যাওয়া, ঝুড়ি তৈরি হওয়ার পর আবার পছন্দের কুরিয়ার সার্ভিসে নিয়ে বুকিং করে দেওয়া পর্যন্ত ক্রেতাদের সাহায্য করছেন তারা।

তাই যারা ঝুড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত তাদের সঙ্গেই জোট বেঁধে শ্রম বিক্রি করছেন গ্রাম থেকে আসা দিন মজুররা। আমের নগরে শালবাগান ছাড়াও বিভিন্ন বাজারে আনাগোনা রয়েছে তাদের।

আমের ঝুড়ি তৈরির সময় কথোপকথনে সালাউদ্দিন শেখ বলেন, মৌসুম শুরুর পর থেকে তার মতো অনেকেই ঝুড়ির ব্যবসা করছেন। মে মাসের শেষ থেকে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলে এ ব্যবসা। তারপর ধীরে ধীরে মৌসুম শেষে আমের কেনা-বেচা কমে, কমে ব্যবসাও।

সালাউদ্দিন শেখ বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুই থেকে তিনশ’ ঝুড়ি তৈরি করতে হয়। এজন্য তিনিসহ আরও চারজন সমানতালে কাজ করেন। খড়, সুতলি, পলিথিনের মোড়ক, ঝুড়ি ও মজুরিসহ একটি ২০ কেজির ঝুড়ি তৈরি করতে তারা ১০০ টাকা এবং এক মণের ঝুড়ি তৈরি করতে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা নেন। কেউ চাইলে সেই ঝুড়ি কুরিয়ার সার্ভিস পর্যন্তও পৌঁছে দিয়ে থাকেন।

এদিকে, ঝুড়ির দোকান মালিক সিরাজুল ইসলাম জানান এবার রমজানেও আমের ব্যবসা জমজমাট। এজন্য তাদের ঝুড়ির ব্যবসাও লাভজনক হয়ে উঠেছে। গ্রাম থেকে খড়, ঝুড়ি নিয়ে আসেন আর শহরের হার্ডওয়ার দোকান থেকে প্লাস্টিকের সুতলি। এছাড়া একটা ৪০ কেজির প্লাস্টিকের বস্তা কাটলে চার ঝুড়ির মুখে দেওয়া যায়। সব মিলিয়ে প্রতিটি ঝুড়িতে তাদের ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে লাভ থাকে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে সুরমা, ফজলি, ল্যাংড়া এবং আম্রপালি আম পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে সুরমা, ফজলি ২ হাজার ২০০ টাকা, ল্যাংড়া ৩ হাজার ২০০ টাকা এবং আম্রপালি ২ হাজার ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

আগামী সপ্তাহ থেকে বাজারে কেবল বিভিন্ন জাতের ফজলি আম পাওয়া যাবে। তাই তাদের ঝুড়ির ব্যবসা আরও প্রায় ২০ দিন জমজমাট থাকবে।

এরপর মৌসুমী ব্যবসায়ীরা আবারও ভিন্ন ব্যবসা করবেন বলে জানান তিনি।

খবরঃ বাংলানিউজ