রাজশাহীতে কেজি দরে তরমুজ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা

রাজশাহী

রাজশাহীতে এবার প্রথম থেকেই তরমুজ চড়া দামে বিক্রি করে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে কেজিদরে তরমুজ বিক্রিতে আপত্তি জানান ক্রেতারা। বিষয়টি নজর কাড়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) থেকে খুচরা কিংবা পাইকারি বাজারে কেজিদরে তরমুজ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজারসহ বিভিন্ন আড়ত পরিদর্শন করে বিক্রেতাদের এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

বাজারে এবার তরমুজের দাম বেশি হওয়ায় তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এই গরমে মন চাইলেও অনেকে তরমুজ কিনতে পারছেন না। সাধারণ ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, চাহিদা থাকায় সিন্ডিকেট করে তরমুজের মূল্যবৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার বাজারে নামেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার ও কৌশিক আহমেদ। তাদের সঙ্গে জেলা মার্কেটিং অফিসার মনোয়ার হোসেনও ছিলেন।

jagonews24

রাজশাহী নগরীর শালবাগানে তরমুজের আড়তগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, এখানে পাইকারিতে দুই হাজার টাকা মণ দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা তা কিনে নিয়ে বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। রাজশাহীর আড়তে তরমুজ আসে বরগুনা, খুলনা ও চুয়াডাঙ্গা থেকে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরীর শালবাগানে তরমুজের আড়তগুলোতে যান। তাদের দেখে কোনো কোনো আড়তদার আড়তে বেড়া লাগিয়ে পালিয়ে যান। তবে কর্মকর্তারা দুটি আড়তে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন। মামা-ভাগনে ফল ভান্ডারে গিয়ে দুই ম্যাজিস্ট্রেট সব আড়ত মালিককে ডাকেন। জানান, তরমুজের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। তাই বুধবার থেকে কেজিদরে তরমুজ বিক্রি করা যাবে না। পিস হিসেবে বিক্রি করতে হবে।

jagonews24

এসময় মামা-ভাগনে ফল ভান্ডারের মালিক শাহিন হোসেন কালু বলেন, বরগুনা, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা থেকে যেসব ব্যবসায়ী তরমুজ এই আড়তে আনেন তাদেরও কেজিদরে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। তাই এটি বাস্তবায়ন করতে কয়েক দিন সময় লাগবে। আড়তদাররা বলেন, কেজিদরেই তরমুজ বিক্রি করলে যে দাম কমবে ব্যাপারটি তা নয়। বরং তাদের যদি কেজি দরেই বিক্রি করার সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে একটু সময় নিয়ে তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করবেন।

একসময় রাজশাহী-নাটোরে প্রচুর তরমুজ উৎপাদন হতো। দিন দিন তরমুজের এ আবাদ কমে এসেছে। রাজশাহীতে এ বছর মাত্র ১৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। জেলার চাহিদা মেটাতে বাইরের থেকে তরমুজ আসে বলে বাজার থাকে আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণে। চাহিদা বেশি থাকলেই তারা দাম বাড়িয়ে দেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগী এসব আড়তদার লাভবান হন।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ জাগোনিউজ২৪