রাজশাহীতে কোরবানির হাটে তিল ধারণের ঠাঁই নেই

রাজশাহী

কোরবানির জন্য পছন্দের পশু কিনতে হাটের দিকে গন্তব্য সবার। হাটগুলোতে কেনা-বেচায় রাজ্যের ব্যস্ততা ভর করেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাথায়। কারোরই ফুরসত নেই। শেষ মুহূর্তের কেনা-বেচায় রাজশাহীর সিটি হাটে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পশু আমদানি ও ক্রেতা দু’ই বেড়েছে। তাই হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে।

শহরের একদম কাছে হওয়ায় এ হাটেই ক্রেতারা ছুটছেন। তাই রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই কেনাকাটায় সরগরম হয়ে উঠেছে পশুর হাট। গরু আর খাসির আমদানিও হয়েছে প্রচুর।

পিছিয়ে নেই মহানগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালির মাসকাটা দীঘি, জেলার গেদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি, পুঠিয়ার বানেশ্বর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনাইচণ্ডী ও নওগাঁর চৌবাড়িয়া হাট। গত বছরের তুলনায় এবার গরু ও ছাগলের দাম বেশি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

তবে আশার কথা হচ্ছে দুপুরের পর থেকে দাম কমাতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। আর কোরবানির পশু কেনার শেষ সময় বলে ক্রেতারাও সেই সুযোগ হাতছাড়া করছেন না।

যানজটে পথে দীর্ঘসময় ব্যয় হওয়ায় হাটগুলোতে তেমন দেখা মেলেনি বাইরের ক্রেতাদের। আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে স্থানীয় ক্রেতা। এবার ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দেশি ছোট এবং মাঝারি আকৃতির গরু। ক্ষতিকর বিভিন্ন দিক ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে মোটাতাজ গরুর দিক থেকে এবার সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাই দেশি গরুর কদর বেশি।

ক্রেতা-বিক্রেতা ও হাট কমিটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ-উল আজহা উপলক্ষে গত তিনদিন ধরে হাট জমে উঠলেও আজই লোক বেশি এবং অন্যান্য দিনের তুলনায় দামও একটু কম। সকাল ১০টা থেকেই মহানগরীর আশেপাশে থেকে হাটে আসা শুরু করেছে গরু, খাসি, ভেড়া।

দুপুর ১টা বাজতেই জমে ওঠে হাট। এরপর জমে ওঠে কেনা-বেচা। বিকেলে মুখরিত হয়ে ওঠে হাট ও তার আশেপাশের এলাকা। সন্ধ্যা গড়িয়ে এ কেনা-বেচা চলবে গভীর রাত পর্যন্ত। এছাড়া সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) সারা রাতই খোলা থাকবে হাট।

রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা থেকে ৭টি গরু নিয়ে এসেছেন সালাউদ্দিন শেখ। সবচেয়ে বড় গরুটির দাম ৯০ হাজার টাকা হেঁকেছেন। আর সবচেয়ে ছোট গরুটির দাম ৪৫ হাজার টাকা। মাঝারি আকারের বাকি গরুর দাম হাঁকছেন ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। সকাল থেকে দু’টি মাঝারি গরু বিক্রি করেছেন। হাটে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি আকারের গরুই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান এ ব্যবসায়ী।

শেষ সময়ের কেনা-বেচা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের গরুর খামার আছে। সারা বছর গরু পালনের পর হাটে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু যতটা লাভ আসা করেছিলেন শেষ পর্যন্ত ততটা হচ্ছে না। এ সপ্তাহে হাটে ভারতীয় গরুর আমদানি বাড়ায় স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা ভালো দাম পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি।

গোদাগাড়ীর মহিষাল বাড়ি গ্রামের গরু বিক্রেতা শফিকুল জানান, আকার ভেদে ছোট আকারের গরু বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। মাঝারি আকারের গরুর দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। মোটামুটি বড় আকারের গরু বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে সব আকারের গরুর দামই ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে এসেছে।

রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, এবার ভারতীয় গরুর আমদানি গত বছরের চেয়ে কম। তাই এখনও দেশি গরুরই চাহিদা বেশি। তবে বিক্রেতারা প্রথম দিকে চড়া দাম হাঁকলেও আজ ব্যতিক্রম। সামান্য লাভ থাকলেই গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

খবরঃ বাংলানিউজ